গুরুদাসপুরে মোমিন হত্যার বদলা নিতেই জালালকে খুন

গুরুদাসপুরে মোমিন হত্যার বদলা নিতেই জালালকে খুন

প্রকাশিত: ১৪-০৬-২০১৯, সময়: ১৮:৫৫ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত জালাল মন্ডলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্ত্রীর কান্না থামছে তো ছেলের কান্না থামছেনা। আর বৃদ্ধা মা কেঁদেই চলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে মোমিন হত্যা মামলার আসামী উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আমজাদ মেম্বারের ছেলে জালাল মন্ডলকে (৬০) পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাবু মন্ডল শুক্রবার গুরুদাসপুর থানায় বাদী হয়ে একই গ্রামের ৯জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

আসামীরা হলেন, মৃত মোমিন মন্ডলের ছেলে আশরাফুল (৩৬), মৃত আক্কাছ মন্ডলের ছেলে শরিফ (৩৭) ও সাইদুল (৪২), মজিদ মন্ডলের ছেলে রেজাউল (৩২) ও রবি (৩৪), মজনুর ছেলে আজাদুল (২৭), মৃত সোবাহানের ছেলে দুলাল হোসেন (৩৩), মোশারফের ছেলে মাহাবুর (২৮) ও মৃত আশকান প্রামাণিকের ছেলে হাছেন আলী (৩০)।

নিহতের স্ত্রী জমেলা বলেন, “স্বামী খুন হওয়ায় আমি বিধবা হলাম। ছেলে মেয়েরা এতিম হলো। বৃদ্ধ শ^াশুড়ি আর ছেলে মেয়েকে নিয়ে কিভাবে চলবো আল্লারে” বলেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

নিহতের ছেলে বাবু মন্ডল জানান, ২০১১ সালের ২৪ মে প্রতিবেশি মোমিন মন্ডলকে কে বা কারা জবাই করে হত্যা করে। তখন আমার বাপ চাচাদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মোমিন হত্যা মামলার আসামী করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) নাটোর কোর্টে সেই মামলার হাজিরা ছিল। ওই মামলাটি আপসের জন্য সকাল ৬টার দিকে নিহত মমিন মন্ডলের ভাই শরিফ, সাইদুলসহ আশরাফুল ও মাহাবুর মোবাইল ফোনে আমার বাবাকে পাশর্^বর্তী সাবগাড়ী গ্রামের অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার স্বপনের বাড়িতে আসার কথা বলে।

বাবু আরও জানান, তার পিতা জালাল উদ্দিন সরল মনে তাদের কথামত স্বপন উকিলের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাবগাড়ী রোডে মোশারফের বাড়ির কাছে পৌঁছালে আসামী শরিফ-সাইদুলেরা প্রকাশ্যে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দুই হাত কেটে নেয় এবং দুই পা ভেঙে দেয় এবং বাম হাত কেটে নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা মুমূর্ষ অবস্থায় জালালকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। মোমিন হত্যা মামলার আসামী হওয়ায় তার বাবা জালালকে হত্যার বদলে হত্যা করা হয়েছে।

অপরদিকে জালাল হত্যার দুইদিনেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও নিহত জালালের কেটে নেয়া হাত উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

উপরে