নাটোরে নিহত জালালের কাটা হাত খুঁজছে পুলিশ

নাটোরে নিহত জালালের কাটা হাত খুঁজছে পুলিশ

প্রকাশিত: ১৩-০৬-২০১৯, সময়: ১৬:৫৬ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : নাটোরের গুরুদাসপুরে মোমিন হত্যা মামলার আসামী জালাল হোসেন মন্ডলকে (৬০) আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় তার হাত-পা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকলে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জালাল মন্ডলের কাটা হাত উদ্ধারসহ হত্যাকারীদের আটকের অভিযান চালাচ্ছে। গুরুদাসপুরের স্বামী পরিত্যাক্ত নারী সফুরা খাতুন হত্যা মামলার প্রধান স্বাক্ষীও ছিলেন জালাল উদ্দিন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, মোমিন মন্ডল হত্যা মামলার ১ নং আসামী জালাল হোসেন মন্ডল। সে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ধরে স্বপরিবারে ঢাকায় বসবাস করছে। অবসরপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল জব্বারের বাসায় কেয়ারটেকার হিসেবে থাকেন। বুধবার তিনি হত্যা মামলার হাজিরা দেয়ার জন্য গুরুদাসপুরের যোগেন্দ্র নগর গ্রামের বাড়ীতে আসেন।

বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের বাড়ী থেকে তিনি ওই হত্যা মামলার ধার্য দিনে হাজিরা দিতে নাটোর আদালত পাড়ার উদ্যেশ্যে রওনা হন। পথে সাবগাড়ী বাঁধ এলাকায় পৌছিলে প্রতিবেশী নিহত মোমিন মন্ডলের ছেলে আশরাফুল ইসলাম, আক্কাছ মন্ডলের ছেলে শরিফুল ইসলাম ও সাইদুর রহমান, সাইদুরের সহযোগী খামার নাচকৈড় এলাকার আব্দুর রব্বেল প্রামানিকের ছেলে শামসুল হকসহ তাদের ১০/১২ জন সহযোগি জালাল মন্ডলের পথ রোধ করে।

এসময় তারা প্রকাশ্যে তাকে রাস্তার ওপর ফেলে তার বাম হাত ও বাম পায়ের রগ কাটে। এসময় ডান হাত কাটলেও তা শরীরের সাথে ঝুলে থাকে। হামলাকারীরা জালাল মন্ডলের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া কাটা ডান হাত নিয়ে চলে যায়। এসময় জালাল মন্ডলের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিৎিসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

নিহত জালাল মন্ডল ওই গ্রামের আমজাদ হোসেন ওরফে আনন্দ মন্ডলের ছলে। দীর্ঘদিন যাবৎ ওই দুই পরিবারের মধ্যে কলহ চলে আসছে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জালালের পরিবার ৫ বছর এলাকা ছাড়া ছিল। ওই সময় জালালসহ তার স্বজনদের জমিজমা দখলকরে নেয় সাইদুল মন্ডলরা। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশোধ হিসেবে মোমিন মন্ডলের ছেলে রফিকের হাত-পা ভেঙ্গে দেয় জালাল মন্ডলের সহযোগীরা। ওই ঘটনার পর থেকে রফিক পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছে। একই সময় বৃদ্ধ মোমিন মন্ডলকে হত্যা করা হয়। এর ৬ মাসের মধ্যে জালাল মন্ডলের নিকট আত্মীয় পাগল সফুরাকে হত্যা করা হয়। সাইদুলসহ অন্যরা সফুরা হত্যা মামলায় আসামী। সেই থেকে পরিবার দুটিতে পাল্টাপাল্টি হত্যাসহ একাধিক ঘটনায় রুজুকৃত মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, সাইদুলসহ যারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা প্রকৃতই সন্ত্রাসী। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতিসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জালাল মন্ডলের মৃত্যু হয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও কেটে নেওয়া হাত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উপরে