সাংবাদিককে হত্যার হুমুকি ধামাচাপা দিতে হুমকি দাতার পাল্টা জিডি

সাংবাদিককে হত্যার হুমুকি ধামাচাপা দিতে হুমকি দাতার পাল্টা জিডি

প্রকাশিত: ১৩-০৬-২০১৯, সময়: ১২:১৫ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, বদলগাছী : নওগাঁর বদলগাছীতে সাংবাদিক আবু সাইদকে হত্যার হুমুকি ধামাচাপা দিতে কৌশলে হুমুকিদাতার একজন বাদী হয়ে গত ৯ জুন বদলগাছী থানায় পাল্টা জিডি করেছেন।

জানা যায়, সাংবাদিক আবু সাইদ এর পারিবারিক কলহের জের ধরে তার স্ত্রীর আপন দুই সহদর ভাই এমদাদুল হক মুকুল ও সাজ্জাদ হোসেন বকুল ঈদের পরের দিন সাইদের অনুপস্থিতিতে তার চাংলা গ্রামের বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় মুকুল ও বকুল সাইদের মা, মামা ও বোনকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাংবাদিক আবু সাইদ পরের দিন ৭ জুন হুমুুকি দাতাদের বিরুদ্ধে বদলগাছী থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন। এ বিষয়ে পত্রপত্রিকায় লেখা লেখি হলে হুমুুুুকি দাতারা জানতে পেরে গত ৯ জুন সন্ধ্যায় হুমকি দাতার একজন এমদাদুল হক মুকুল সাংবাদিক আবু সাইদ এর বিরুদ্ধে সম্পূর্ন মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট একটি সাধারণ ডাইরি করেন।

ডাইরি সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন সকাল অনুমানিক সাড়ে ৯ টার সময় বদলগাছী হাটখোলা বাজার সংলগ্ন এমদাদুল হক এর বড় ভাই এনামুল হক এর মোহনা গার্মেন্টস দোকানে ঘটনাস্থল উল্লেখ করে ডাইরিতে লেখা হয়েছে, বাদী এমদাদুল হক অবস্থান কালে সাংবাদিক সাইদ হঠৎ করে উপস্থিত হয়ে তার বোন অর্থাৎ সাংবাদিকের স্ত্রী কামরুন্নাহারকে হত্যা করে ফানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে অত্নহত্যা বলে চালিয়ে দিবে এবং তাকে সহ তার ভাই কে হত্যা করার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে ভগ্নিপতি সাংবাদিক সাইদ এর বিরুদ্ধে সাধারণ ডাইরি করা হয়। (ডাইরি নং-২৯৫ তাং-০৯-০৬-১৯ ইং)

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডাইরিতে যে ঘটনার সময় ও তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে সে সময় তারা বদলগাছী ওই মোহনা গার্মেন্টসে বা ঘটনা স্থলে কেহ আসেন নাই। সরজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে মোহনা গার্মেন্টস এর আশে পাশের দোকান মালিকেরা সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান মালিক জানান, ওই দিন বিকেলে জিডির বাদী এমদাদুল হক মুকুল ও তার বড় ভাই আনিছার রহমান মোহনা গার্মেন্টস এর সত্বাধিকারী আপন ভাই এনামুলের দোকানে আসেন। তার পর তারা নিজেদের মধ্যে গল্পগুজব করে সন্ধ্যার পর চলে যান। কিন্তু থানায় ডাইরি বা কি কাজে এসছিলেন তারা জানে না। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯ টায় মোহনা গার্মেন্টস এর মালিক এনামুল হক এর দোকানে সাংবাদিক সাইদ এসছিল কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন উল্লেখিত দিন সময়ে সাইদ আসেনি বা সেখানে কোন প্রকার ঘটনা ও ঘটেনি।

এ বিষয়ে সাংবাদিক আবু সাইদ জানান, তার স্ত্রী কামরুন্নাহারের বিভিন্ন ভুল ক্রুটির জন্য বাধা নিষেধ করলে তার স্ত্রী তখন খাবারের সাথে গাছগাছরার ঔষুধ মিশিয়ে খাওয়ায়ে তাকে পাগল ও হত্যার চেষ্টা করতে থাকে। এক পর্যায় সাংবাদিক সাইদ তার স্ত্রী কামরুন্নাহারের হাতের রান্না করা ভাত তরকারি খেয়ে গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে পরলে বিষয়টি তার স্ত্রীর বড় ভাই সহ কয়েক ভাইকে অবহিত করে। এ নিয়ে গত ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের ২ তারিখে তার স্ত্রীর বড় ভাই আনিছার রহমান, এনামুল হক, সাজ্জাদ হোসেন বকুল ও এনামুলের স্ত্রী কবিতা সহ সাইদের বাসায় আসে এবং ঘরোয়া বৈঠকে বসে। সেখানে কামরুন্নাহার তার নিজস্ব ব্যবহিত মোবাইল ফোনে বিভিন্ন জনের সাথে অবৈধ্য কথাবার্তার মোবাইল রেকর্ড প্রকাশ করা হলে ও খাবারের সাথে গাছগাছরার ঔষুধ মেশানোর বিষয়টি প্রমান হয়। এই অবস্থায় তার ভাইয়েরা কামরুন্নাহারের অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে সাংবাদিক সাইদের নিকট ক্ষমা পার্থনা করে। তার ভাইদের আকুতির কারনে সরল বিশ্বাসে স্ত্রী কামরুন্নাহারকে ক্ষমা করে দিয়ে সংসার অটুট থাকে। কিন্তু তার ৫/৭ দিন পার না হতেই আবার ও তার স্ত্রী খাবারের সাথে গাছগাছরার কবিরাজি ঔষুধ খাওয়ালে সাংবাদিক সাইদ আবার ও মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরেন এং ব্রেইন এর সমস্যায় পরেন। এর ২/১ দিন পর বদলগাছী জিধিরপুর (কলেজপাড়া) নিজ বাসায় তার স্ত্রী দুই শন্তানদের রেখে একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। সেখানে সাইদ প্রায় দির্ঘ্য ৮ মাস যাবৎ একক ভাবে অবস্থান করলে ও স্ত্রী সন্তানদের দেখা শুনা ও যাবতীয় ব্যায়ভার বহন করে আসছেন। তবু ও ঈদের পরের দিন বৃহস্প্রতিবারে তার স্ত্রীর দুই সহদর ভাই এমদাদুল হক মুকুল ও সাজ্জাদ হোসেন বকুল সম্পূর্ন অবৈধ্য ভাবে সাইদ এর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। বিষয়টি জানার পর সাংবাদিক আবু সাইদ পরের দিন শুক্রবার ৭ জুন তার নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডাইরি করলে ৯ জুন থানার এস,আই শাহিন চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। তদন্তে সাংবাদিক সাইদকে হত্যা ও লাশ গুমের হুমকির অভিযোগটি সত্যতা পায়। এ খবর পেয়ে হুমুকি দাতারা বিপাকে পরেন।

পরে হত্যার হুমকি হতে বাঁচতে বা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ৯ জুন সন্ধ্যার পর হুমকি দাতারা সাংবাদিক সাইদ এর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট একটি সাধারণ ডাইরি করেছেন। হুমকি দাতা এমদাদুল হক মুকুল ও সাজ্জাদ হোসেন বকুল উপজেলার তেজাপাড়া গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে।

এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ওসি তদন্ত আব্দুল মালেক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জানায় সাংবাদিক সাইদ এর বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর ভাই একটি জিডি করেছে। দুটি জিডির তদন্ত ভার থানার সেকেন্ড অফিসার এস, আই শাহিন চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে।

উপরে