ইটভাটার কালো ধোয়ায় বিবর্ণ হচ্ছে গাছের আম

ইটভাটার কালো ধোয়ায় বিবর্ণ হচ্ছে গাছের আম

প্রকাশিত: ১১-০৬-২০১৯, সময়: ১৮:২৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোয়ার কারণে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে গাছের আম। শুধু তাই নই, আমে দেখা দিচ্ছে ব্লাকটিপস রোগ। আমের আকার দিনে দিনে ছোট হয়ে আসছে। বড় আকারের আম গাছে আমের দেখা মিলছে না। বিশেষ করে ফজলি আমে এর প্রভাব অনেকটা বেশী। কেউ কেউ আমগাছ কেটেও ফেলছেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলার ঢুসপাড়া, অমৃতপাড়া, রহিমপুর ইত্যাদি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আম চাষীরা হা-হুতাশ করছে। কারো কারো গাছে আমই ধরেনি। আবার কারো গাছের আমের নিচের দিকটা চিকন হয়ে গেছে। আমের সাইজ ছোট ও নিচের দিকে পচন ধরেছে। তাজিমুল হকের ঢুসপাড়া গ্রামের একটি আমবাগানের ১শ ১২টি আম গাছের আম একবারে বিবর্ণ হয়ে গেছে। আম দেখে বোঝার জো নেই গাছে আম নাকি বেল ঝুলছে। সব’টি আমের ওপরের অংশ দেখতে ছফেদা ফল অথবা বেলের মত। ইট ভাটার কারণে এসব সমস্যা হচ্ছে বলে আমচাষী ও আম ব্যবসায়ীদের আভিযোগ। তারা উপজেলা নির্বাহী আফিসার, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, এমনকি হাই কোর্ট পর্য়ন্ত ছুটেছেন কিছুতেই কোন কাজ হয়নি। প্রতি বছরই নতুন নতুন ইটভাটা নির্মান হচ্ছে। জেলা প্রশাসনে আবেদন করেই উৎপাদনে চলে যান ইটভাটা মালিকরা। অনুমোদনের আপেক্ষায় থাকেন না। উপজেলার ৩৫টি ইট ভাটার অধিকাংশরই বৈধ লাইসেন্স নেই। নেই পরিবেশ আধিদপ্তরের ছাড়পত্র। এমনটিই জানাগেছে উপজেলা প্রশাসন থেকে।

অমৃতপাড়া গ্রামের আমচাষী সোলাইমান আলী জানান, তারা অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটা ভাটা বন্ধের দাবিতে হাইকোর্টে রীট করলে আদালত থেকে ইটভাটার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারী হয়েছে। তাও মানছেনা ইটভাটা মালিকরা।

লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, ইটভাটা থেকে নির্গত ধোয়া সব ফলের জন্যই ক্ষতিকর। তবে সুষম সারের অভাবে আমের রং বিবর্ণ হয়। আমবাগানের আশে পাশে ইটভাটা থাকলে আমে দাগ পড়ার বিষয়টি আরো তরান্বিত হয়।

উপরে