চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ বছর পর লিচুর বাম্পার ফলন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ বছর পর লিচুর বাম্পার ফলন

প্রকাশিত: ০৪-০৬-২০১৯, সময়: ১২:৪০ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে পুরোদমে পাকা লিচু বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। রমজানের কিছুদিন আগে থেকেই বাজারে উঠেছে লিচু। জেলায় তুলনামূলক ভাবে আগাগোড়াই লিচু বাগানের সংখ্যা খুব কম। ৫ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লিচু বাগান থেকে বাজারে যে লিচু নামে তা কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। জেলার বাইরে থেকে প্রচুর পরিমান লিচু এনে এখানকার ফল পিপাসুদের চাহিদা মেটানো হয়। এই সিজিনে কিছু মানুষের বাড়তি রোজগারও হয়ে যায় লিচুর ব্যবসা করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেশী জাতের পাশাপাশি বোম্বাই জাতের লিচু বিক্রি হতে দেখা গেছে। দেশী গুটি লিচুর চাহিদা খুব একটা না থাকলেও বোম্বাই জাতের লিচুর চাহিদাও বেশি, বিক্রিও হচ্ছে বেশি। সোমবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ফিল্টের হাট, আকুন্দ বাড়িয়া, মেলার মোড়সহ মহানন্দা নদী সংলগ্ন মিদধা টোলার বাগানে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে থোক থোক লিচু। বিশাল এলাকা জুড়ে আম বাগানের মধ্যে রয়েছে ২০০ থেকে ৩০০টি লিচু গাছ। দুর থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই এখানে লিচু বাগান আছে। কাছে যেতেই চোখে পড়বে আম বাগানের মাঝে মাঝে একটি করে লিচুর গাছ।

কিছুদুর যেতেই নামকরা লিচু বাগান ১৬ বিঘিতে চোখে পড়ল ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি গাছ থেকে লিচু পাড়ছে। এই ১৬ বিঘি বাগানে সব লিচুই বোম্বাই। গাছে দু জন লিচু পেড়ে রশিতে ক্যারট বেঁধে তা নিচে নামানো হচ্ছে। কারণ উপর থেকে লিচু মাটিতে পড়লে ফেটে রস বের হয়ে যায়, তাই এ ব্যবস্থা। গাছের নিচে আরো সাত আট জন লিচু একটা একটা করে গুনে ৫০ টি করে আটি করছে। লাল টুকটুকে একেকটি লিচুর সাইজও বেশ। পাতার বদলে শুধু লাল লিচু চোখে পড়েছে গাছ জুড়ে। এ বাগান থেকে আম আর লিচু প্রায় আগে পরেই পাড়া শুরু হয়।

কৃষক আব্দুর রাকিব জানান, গত ১০ বছরের ভেতরে এবার সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছে ব্যাপকহারে লিচু ধরেছে এবার। বাগানের লিচু প্রতিদিনি বাজারে নামছে। এখনো অনেক লিচু গাছে আছে যা আরো বেশকিছুদিন থাকবে। রাকিব আরো জানান, লিচু পরিপক্ক হলে আড়ত থেকে এবং শহর থেকে ব্যবসায়ীরা আসে লিচু কিনতে। কোন কোন ব্যবসায়ী আগাম অর্ডার দিয়ে দেয় লিচু কেনার জন্য। বাগান থেকে লিচু কিনে তারা বাজারসহ শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বিক্রি করে।

সুমন, খাইরুল নামে দুজন কৃষক জানান, যতদিন লিচু আছে গাছে ততদিন গাছ থেকে লিচু পাড়া, গণনা করে আটি করাসহ সব কাজ আমরা করি। এখানকার বেশিরভাগ বাগান আত্মীয় স্বজনের তাই বাইরে থেকে লোক আনতে হয় না। আমরাই সবাইমিলে কাজ করি। সবকিছু নিজেরা করে যেটুকু থাকে তাতেই সন্তুষ্ট। কারণ একটা সিজিন বসে না থেকে এ কাজটা করি। মুখলেস আলী, আলম, মেরাজ, মুস্তাকিন, তৌহিদ নামে আরো অনেকেই লিচুর সিজিনে বাগানে কাজ করে বলে জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা ফল ব্যবসায়ী জিলহাজ বিশ্বাস জানান, নদীর এপারে নামকরা বিশাল এলাকা নিয়ে ১৬ বিঘির লিচু বাগানের লিচুর চাহিদা রয়েছে। এখানকার লিচু সাইজে যেমন বড় তেমনি রঙও বেশ। যে কেউ বোম্বাই লিচু দেখলে খেতে মন চাইবে। এ বাগান থেকে লিচু কিনে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করি। ১০০ লিচুর দাম এখন এটাই চলছে। আর গুটিদেশী লিচু ১৫০ টাকা থেকে ১৮০/২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি লিচুর বাম্পার ফলনের কারণে ব্যবসাও ভাল হবে। গতবারের তুলনায় এবার লিচুর দাম বেড়েছে বলেও জানান জিলহাজ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মুঞ্জুরুল হুদা জানান, এ জেলাতে সর্বত্র আম বাগান। অন্যান্য ফলের বাগান রয়েছে যার ভেতর রয়েছে কিছু লিচু বাগান। কিছু কিছু এলাকাতে আম বাগানের ভেতরে লিচু বাগান আছে। লিচুর যা বাগান আছে তাতে লিচুর চাহিদা মেটানো সম্ভব না এ এলাকার মানুষের। বর্তমানে কোন প্রকার রাসায়নিক ছাড়াই চাষ করা হয়েছে লিচু। ফলনও বেড়েছে অনেক।

উপরে