লায়লার উচ্চ শিক্ষার পথ কি বন্ধ হবে?

প্রকাশিত: ০২-০৬-২০১৯, সময়: ১৬:০৮ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : সবাই যখন পরিবার-পরিজনদের সাথে ঈদ উদযাপন নিয়ে ব্যস্ত, তখন নাটোরের সিংড়ার লায়লাদের ঘরে সে ব্যস্ততা মোটেও স্পর্শ করেনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি লায়লার বাবা শাহাদুল ইসলাম হাদু প্যারালাইজড রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। বাবার উপার্জন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পঙ্গু হয়ে গেছে পুরো পরিবার। একারনে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী লায়লার উচ্চ শিক্ষার পথও বন্ধের পথে।

দুই কন্যা সহ মোট চারজনের পরিবার সিংড়া উপজেলার ভাগনাগরকন্দি গ্রামের শাহাদুল ইসলাম হাদুর। তিন মাস আগেও শাহাদুলের আয়ে বেশ ভালই চলছিল তাদের সংসার। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়েছে তা দিয়েই বেশ ভালই চলতো সংসার। গত তিন মাস ধরে প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন সাহাদুল। বন্ধ হয়ে গেছে সকল আয় উপার্জন। বড় মেয়ে লায়লার জীবনেও নেমে আসে অন্ধকার।

জীবন কি জিনিস বুঝে উঠার আগেই সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী গ্রামে। কিন্তু ছেলের পরিবারে সাথে বনিবনা না হওয়ার কারণে বিচ্ছেদ হয় সে সংসার। আবারো পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার জন্য ভাগনাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় লায়লা। কিছু দিন চলার পর আবারো বন্ধ হয়ে যায় লেখাপড়া। কিন্তু মনোবল হারায়নি লায়লা। ২০১৮ সালে একই বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় লায়লা।

এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হন রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক্যালে। বর্তমানে সেখানে কম্পিউটার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সে। আর লায়লা ছোট বোন বিপাশা এবারে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তবে পিতা হঠাৎ প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী হওয়ার কারনে পড়াশুনার খরচ বহন করতে না পারার কারনে রাজশাহী থেকে চলে আসতে হয়েছে লায়লাকে। বিত্তশালীদের সহযোগিতা না পেলে হয়তো লায়লার উচ্চ শিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ তার লেখা পড়ার খরচ চালানোর সামর্থ্য নেই পরিবারের।

এদিকে চিকিৎসার অভাবে লায়লার বাবা শাহাদুলের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। চোখে অন্ধকার দেখা এই পরিবারটির দিন কাটছে হতাশা আর অনিশ্চিতায়। সবাই যখন পরিবার-পরিজনদের সাথে ঈদের আনন্দ করবে তখন হয়তো লায়লার পরিবারকে কষ্ট কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে। লায়লার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছে তার পরিবার।

Leave a comment

উপরে