লালপুরে ধানের ফলন কম, উঠছেনা উৎপাদন খরচ

লালপুরে ধানের ফলন কম, উঠছেনা উৎপাদন খরচ

প্রকাশিত: ২৬-০৫-২০১৯, সময়: ১২:১৯ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, লালপুর : এপ্রিল মাসের শেষে দু’দফায় শিলাবৃষ্টি ও মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ফনির প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ায় নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বোরো ধান পড়ে যাওয়ায় প্রতি বিঘায় ফলন কমেছে প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত। আড়বাব উনিয়নের কচুয়া, নওদাপাড়া, গড়েরভিটা এলাকার অনেক জমিতে প্রতি বিঘায় ধান হয়েছে মাত্র ৮/১০ মণ। ধানের দাম কম আর শ্রমিকের মজুরী বেশী হওয়ায় ধানের উৎপাদন খরচই উঠছেনা।

গড়ের ভিটা গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, শিলাবৃষ্টিতে ধান পড়ে নষ্ট হওয়ায় তার ১৫ কাঠা জমিতে ধান হয়েছে মাত্র ৩ মণ। তিনি জানান, শিলা বৃষ্টির কারণে তার এলাকার প্রায় ৭০ ভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ধান কেটে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

গোদাগাছা গ্রামের কলেজ শিক্ষক আজাদ হোসেন জানান, আড়বাব ইউনিয়নে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ধান পড়ে যাওয়ায় কৃষকরা এবার গত বছরের তুলনায় আর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারছেন না। ধান পড়ে গিয়ে প্রতি বিঘায় উৎপাদন কমেছে ৮/১০ মণ।

উপজেলার ভেল্লাবাড়িয়া গ্রামের ধানচাষী আকবর আলী জানান, ধান পড়ে গিয়ে প্রতি বিঘায় উৎপাদন কমেছে। অথচ মজুর খরচ বেড়েছে। প্রতি মণ ধান কাটতে মজুরী হিসেবে যাচ্ছে ৮ থেকে ১০ কেজি। বাজারে ৬শ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে লোকসান গুনতে হবে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মকবুল হোসেন জানান, কৃষকদের যারা আগাম ধান চাষ করেছিলেন তারাই বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আবার ধানের জাতের কারণেও অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। শিলাবৃষ্টিতে সব ধানের ক্ষতি হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ধান পড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন কিছুটা কমেছে। এবছর উপজেলায় ৯৭০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে।

উপরে