পত্নীতলায় সিন্ডিকেটের কবলে কাস্টমস অফিস, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

পত্নীতলায় সিন্ডিকেটের কবলে কাস্টমস অফিস, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রকাশিত: ২১-০৫-২০১৯, সময়: ১২:০২ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, বদলগাছী : নওগাঁর পত্নীতলার কাস্টমস অফিসকে ঘিরে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সিন্ডিকেট চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন স্থানীয় যুবলীগসহ কাস্টমস এর অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

সিন্ডিকেট এতই শক্তিশালী যে, বিজিবি-১৬ এর আটককৃত গরু বিজিবি-১৪ ব্যাটালিয়নের অধীনে এনে কাস্টমস এ জমা দেওয়া হচ্ছে এবং সেখান থেকেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কম দামে বিক্রয় করা হচ্ছে। আর এ কারণে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিজিবি সদস্যরা বর্ডার এলাকা হতে অবৈধ ভাবে পাচারের অভিযোগে যে সকল গরু বা মহিষ আটক করে সেগুলো পত্নীতলা কাস্টমস অফিসের মাধ্যমে নিলাম করা হয়। পত্নীতলা কাস্টমস এর নিলামকে ঘিরে গত কয়েক বছর ধরেই স্থানীয় যুবলীগের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করছে। নিলামের জন্য স্থানীয়ভাবে মাইকিং ও প্রচারণা চালানো হলেও প্রকৃতপক্ষে সিন্ডিকেটের বাইরে কাউকে নিলাম ডাকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। সর্বশেষ পত্নীতলা কাস্টমস অফিসে গত রোববার ২টি গাভীসহ মোট ৮টি বড় সাইজের গরু ১লাখ ৯৫ হাজার টাকায় আব্দুল খালেক নামে এক ব্যক্তিকে নিলামে দেওয়া হয়। নিলামে কথিত সিন্ডিকেটের ৯জন অংশগ্রহণ করেন। নিলামকৃত প্রতিটি গরুর বর্তমান বাজারদর নূন্যতম ৫০-৬০ হাজার টাকা বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

একইভাবে গত ১৫/৫/২০১৯ তারিখে ৬টি বড় ভারতীয় গরু নিলামে তোলে। আকার অনুযায়ী এ সকল গরুর প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ছিল ৬০-৭০ হাজার টাকা। কিন্তু কাস্টমস কর্ত্তৃপক্ষ মাত্র ১লাখ ৮০হাজার টাকায় নিলামের মাধ্যমে উক্ত ৬টি গরু সিন্ডিকেট সদস্য আব্দুল খালেকের নিকট বিক্রয় করে। এভাবে সিন্ডিকেট সদস্যরা কৌশলে অপেক্ষাকৃত কম দামে গরু বা মহিষ ক্রয় করে নিজেদের পকেট ভারী করছে। বিষয়টি এলাকায় ওপেন সিক্রেট হলেও এ বিষয়ে যেন দেখার কেউ নেই। অন্যদিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশী দামের গরু/মহিষ অল্প দামে বিক্রয় করায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

এ বিষয়ে পত্নীতলা কাস্টমস এর দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক মামুনুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, নিয়ম মেনেই নিলাম করা হয়ে থাকে।

উপরে