নিয়ামতপুরে ঝড়ে উড়লো সেই অবহেলিত বিদ্যালয়টির টিনের চাউনি!

নিয়ামতপুরে ঝড়ে উড়লো সেই অবহেলিত বিদ্যালয়টির টিনের চাউনি!

প্রকাশিত: ২০-০৫-২০১৯, সময়: ১৫:৫১ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : শুক্রবার বিকালে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত ইকরাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। এতে করে নাজুক অবকাঠামোর মাটির দেয়াল দিয়ে তৈরী বিদ্যালয়টি শুধু ক্ষতির মধ্যেই নয় চরম ঝুঁিকতেও পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা দ্রুত বিদ্যালয়টি সংস্কার করা না হলে মাটির দেয়াল গলে গলে পড়বে। এতে মাটির ভবনটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে শিশুদের জন্য। এছাড়া রমজানের ছুটির পর শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নীচে পাঠদান করতে হবে।

সরেজমিনে রবিবার উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইকরাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাটির তৈরী দেয়াল ও টিনের ভাংগা ভাংগা ছাউনি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এল প্যাট্রানের ভবনটি। উড়ে যাওয়া টিন, বাঁশ, কাঠ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে বিদ্যালয়ের চারিদিকে। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে মাটির তৈরী ছোট্ট একটি অফিস কক্ষ ও পাঠদানের জন্য তিনটি শেণ্রীকক্ষ। শুক্রবারের ঝড়ে এর টিনের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় প্রায় লক্ষাধীক টাকার ক্ষতির সম্মূখীন হয়েছেন এমনটিই দাবী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

জানা যায়, বিদ্যালয়টি ২০০৭ সালে স্থাপিত হলেও জাতীয় করণ হয় ২০১৪ সালে। শিক্ষকের সংখ্যা প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচ জন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্য ১৮২ হলেও বিদ্যালয়টিতে নেই শিক্ষাবান্ধব কোন পরিবেশ। নেই পানীয় জল ও স্যানিটেশনের সুবিধা। পানি খেতে শিক্ষার্থীদের যেতে হয় বিদ্যালয় ছেড়ে পাশের গ্রামে। একেবারেই বাথরুম সুবিধা না থাকায় মাঝে মধ্যেই বিপত্তি ঘটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। অথচ এমন অবহেলিত বিদ্যালয়টির খবর রাখেননা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী জলি, আলিয়া, সুমনা এক্কা ও ফুরকান জানায়, শুক্রবারের ঝড়ে তাদের বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। এখন বিদ্যালয় বন্ধ কিন্তু ছুটি শেষে কিভাবে শ্রেণী কক্ষে পাঠদান চলবে এ নিয়ে চিন্তিত তারা। তারা আরো জানায়, বিদ্যালয়ে নলকূপ না থাকায় এ প্রচন্ড গরমে পিপাসা পেলে তাদের খুব কষ্ট হয়্। পানি খেতে যেতে হয় পাশের গ্রামে। মাঝে মাঝে এ প্রচন্ড গরমে রৌদ্দুরের মধ্য দিয়ে পাঁয়ে হেটে পানি খেতে যেতে হাঁপিয়ে উঠে তারা। তখন ঘামে ভিজে যায় সমস্ত শরীর। এছাড়াও ভাল পায়খানা না থাকায় টয়লেটেও যেতে পারেনা তারা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বলেন, “চলতি এপ্রিল মাসের এক তারিখে তিনি বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেছেন। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো খুব নাজুক। শুক্রবারের ঝড়ে তার বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। এ নিয়ে তিনি ও সংশ্লিষ্টরা এর মেরামত নিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছেন। এছাড়াও তিনি জানান, বিদ্যালয়টিতে মাটির ও টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরী তিনটি মাত্র শ্রেণী কক্ষ। অফিস কক্ষটিও খুব ছোট। সরকার ও শিক্ষা অফিস থেকে দেয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম ও শিক্ষা উপকরন অফিসে সংরক্ষন করতে হয় গাদাগাদি করে। বিদ্যালয়টিতে নেই স্যানিটেশন ও পানির সুবিধা। তিনি এসকল বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদ্যালয়টির নাজুক অবকাঠামোর কথা শিকার করে বলেন, শুক্রবারের ঝড়ে বিদ্যালয়টির টিনের ছাউনি উড়ে যাবার খবরটি তিনি শুনেছে। প্রধান শিক্ষকের সাথে তার এ বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে ও করনীয় বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলেন তিনি।

Leave a comment

আরও খবর

  • বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে
  • থাকছে না জিপিএ ৫ পদ্ধতি
  • একাদশে ভর্তির প্রথম পর্যায়ে কলেজ পায়নি ৯৭ হাজার শিক্ষার্থী
  • প্রাথমিকের শিক্ষকদের নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
  • সিরাজগঞ্জের জাহান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবণ জয়ন্তী ও পুনর্মিলনী
  • পাঠক্রমে আসছে বড় পরিবর্তন
  • রাজশাহী বোর্ডে খাতা পুনঃনিরীক্ষণে ৩৩ শিক্ষার্থী উত্তির্ণ
  • রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৩৩ শিক্ষার্থী
  • শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল
  • ডাকসুর আজীবন সদস্য হলেন শেখ হাসিনা
  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন নিষেধাজ্ঞা
  • রাবিতে সাত পুকুর গবেষণা প্রকল্পে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ
  • ডাকসু ভিপি নুরের হামলাকারীদের শাস্তির দাবি রাবি ছাত্র ফেডারেশনের
  • রাবিতে ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পুকুর সংস্কারের উদ্যোগ
  • নন্দীগ্রামে স্কুলের সভাপতির বিরুদ্ধে গাছ বিক্রির অভিযোগ



  • উপরে