শিবগঞ্জে উদ্বোধনের দিন পঁচা গম নিয়ে হট্টগোল

শিবগঞ্জে উদ্বোধনের দিন পঁচা গম নিয়ে হট্টগোল

প্রকাশিত: ১৫-০৫-২০১৯, সময়: ১৮:১৭ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে কৃষকের কাছ থেকে ২৮ টাকা দরে ৩ টন গম সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর পঁচা গম সংগ্রহ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে বিক্ষোভ ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে। এরআগে বুধবার দুপুরে শিবগঞ্জ খাদ্য গুদামে মনাকষা এলাকার এক কৃষকের কাছ থেকে ৩ টন গম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল। সরকারিভাবে শিবগঞ্জ খাদ্য গুদামে অভ্যন্তরীন গম ও বোরো সিদ্ধ চাল ক্রয় শুরু হয়।

এ সময় গুদামের ভেতরে পড়ে থাকা কিছু গমের বস্তায় ও ট্রলি ভর্তি গমের বস্তায় পোঁকা লক্ষ্য করা যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে খাদ্য গুদাম থেকে ট্রলিসহ গম নিয়ে ওই ট্রলি চালক সটকে পড়েন। এর পর সাংসদ এলাকা ত্যাগের পর গোমস্তাপুর উপজেলার আড্ডা থেকে একটি ট্রলি ভর্তি গম খাদ্য গুদামের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টাকালে স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে ইউএনও ঘটনাস্থলে এসে ওই গম ভর্তি ট্রলি ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর কিছুক্ষণ পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খাদ্য গুদামের সামনে একটি ট্রলি থেকে পঁচা গম সংগ্রহ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে প্রতিবাদ জানিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। এতে শিবগঞ্জ উপজেলা ঠিকাদার সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মিটুল খাঁন প্রতিউত্তর করলে দু’গ্রুপের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন- মিটুল খাঁন কৃষক না হওয়া স্বত্ত্বেও একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তায় ভূয়া কার্ড দেখিয়ে গম সংগ্রহ ও সরবরাহকারী বলে অনেকেই জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি বাইরের উপজেলা থেকে কম মুল্যে পঁচা গম সংগ্রহ করে সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. শিমুল। তিনি কৃষক ও গুদাম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন- একজন কৃষকের কাছ ৩ টনের বেশি গম না নেয়া, বাইরের উপজেলার থেকে গম সংগ্রহ এবং নষ্ট কিংবা পঁচা গম সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে জানতে শিবগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিয়াজুল হক জানান, ‘‘ইউএনও স্যারের পরামর্শে ৩ টন গম সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের কিছুক্ষণ পর আপাতত গম সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এবার কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ১৭৭ টন গম ও ৫১৭ টন চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রতি কেজি গমের মূল্য ধরা হয়েছে ২৮ টাকা। খাদ্য গুদামের বাইরে কিছু হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে শুনেছি বলে জানান তিনি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী রওশন ইসলাম কোন অনিয়ম হতে দেবেননা জানিয়ে উপজেলার কৃষকের কাছ থেকে সংগৃহিত ও উপজেলা এলাকায় উৎপাদিত সম্পূর্ন পোঁকামুক্ত গম বা চাল ক্রয় করা হবে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে বাধা প্রদানকারীদের অন্যতম উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিজভী আলম রানা বলেন, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভূয়া তালিকা প্রস্তুত করে পোঁকা ও নষ্ট গম উপজেলার বাহিরে থেকে এনে গুদামে ভর্তির চেষ্টা চলছে। প্রকৃত কৃষকদের গম ও চাল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে, এ জন্যই তিনিসহ কর্মীরা পোঁকাযুক্ত গম প্রবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছি।

আরও খবর




উপরে