শহীদ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর বীরশ্রেষ্ঠ সেতুর তলদেশে বোরো আবাদ

শহীদ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর বীরশ্রেষ্ঠ সেতুর তলদেশে বোরো আবাদ

প্রকাশিত: ০৪-০৫-২০১৯, সময়: ১৩:৫২ |
Share This

ডি এম কপোত নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : পানি প্রবাহ একেবারে থেমে গেছে। তীব্র খরস্রোতা নদী মহানন্দার এই হাল হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের সম্মুখে। পুরো শহর ও পৌর এলাকার মধ্যে নদীর অবস্থান প্রায় ১৫ কিলোমিটার। বিশেষ করে শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর বীরশ্রেষ্ঠ সেতুর উজানে ২.৫ কিলোমিটার ও ভাটিতে সমান পরিমান এলাকা জুড়ে এখন হচ্ছে ইরি বোরোর আবাদ। নদীর তলদেশের চর দখল নিয়ে এবারে মৌসুমেও আইনশৃঙ্খলায় টান পড়ে। এক শ্রেণীর দখলদার নদীর তলদেশ দখল নিয়ে নেমে পড়ে নদীতে। ফলে আইন শৃঙ্খলায় টান পড়ে ব্যাপক হারে। মহানন্দা সেতুর দুই দিকে প্রায় দুই হাজার হেক্টরের অধিক এখন ফসলের জমি। সেতু নির্মানকালীন নদী শাষণ করতে গিয়ে নদী সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিবছর চর পাড়া শুরু হয়। এখন চর পড়তে পড়তে নদীর মূল প্রবাহ একেবারে থেমে গেছে। ফলে মাছ চাষেও ভাটা পড়েছে। নদীর অপর পারে সেতু সংলগ্ন বারঘরিয়ায় প্রায় হাজার খানেক জেলে পরিবার একেবারে বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কোন কাজ নেই নদীতে পানি না থাকায়।

এদিকে মহানন্দা নদী পাহাড়িয়া হবার ফলে মালদহ জেলার উপর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ভোলাহাট এলাকার উপর দিয়ে। পড়েছে চাঁপাই জেলার পাঁচ উপজেলা হয়ে গোদাগাড়ীর কাছে পদ্মায়। উজানে একাধিক বাধ দেবার কারনে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে অসংখ্য চর পড়েছে। থেমে গেছে স্রোতধারা। পরিবেশে হয়েছে বিপন্ন। চাঁপাই জেলার উভয় তীরবর্তী মানুষের জীবন জীবিকা একেবারে থেমে গেছে।

পানি না থাকায় মারাত্মক প্রতিক্রিয়ায় মরুভূমি হতে চলেছে ভোলাহাট, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও নবাবগঞ্জ সদর। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষি ব্যবস্থা পাঁচ উপজেলা সংলগ্ন এলাকায়। বিশেষ করে গোমস্তাপুর, নাচোল ও সদরের বরেন্দ্র ভূমিতে টান পড়েছে সেচের। তিন উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা না পাবার কারনে ধান মরে যাচ্ছে। কারন নদীতে পানি না থাকায় পাড়ের ১৪টি সেচ ক্যানেল বন্ধ ও বরেন্দ্র ভূমির ডিপে পানি আসছেনা। নদীর তলদেশ শুকিয়ে যাবার কারনে এইসব বরেন্দ্র এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। পাঁপাই শহরে সব ধরনের হাত টিওবয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। এই সংখ্যা দুই হাজার পেরিয়ে যাবে তীব্র পানি সংকটে পড়েছে বরেন্দ্র জনপদের এই অংশটি। পাশাপাশি আম গাছের বা আম বাগানের গুটি ঝরে পড়ছে পানির অভাবে।

বর্তমানে মহানন্দার কোথাও ১ ফুট আবার কোথাও ৬ ইঞ্চি পানি ঘভীরতা এখানে পুরান মানুষের বক্তব্য হচ্ছে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত মহানন্দা নদীতে মুর্শিদাবাদ, লালগোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে মালদহ পর্যন্ত লঞ্চ, ষ্টিমার চলতো। কিন্তু মহানন্দা আজ একেবারে মরা নদীতে পরিনত হয়েছে। নৌকাও চলছেনা। এমনকি এর শাখা নদীগুলো যেমন পাগলা ও পুনর্ভবা একেবারে শুকিয়ে গেছে পলি পড়ে। এ বছর নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি করেছে যারা নদীর তলদেশে ইরি, বোরো লাগিয়েছিল। তারাও নদী শুকিয়ে যাবার কারনে সেচ হচ্ছেনা এইসব জমি। পরিমান দাড়িয়েছে প্রায় কয়েক হাজার হেক্টর।

বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চল জুড়ে যারা নদীর তলদেশ দখল নিয়ে ইরি বোরো আবাদ করেছিল তারা মারাত্মক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এর উপর মরার উপর খাড়ার নজর। রাজস্ব বিভাগের কিছু লোক এইসব নদীর তলদেশের জমি নিয়ে বাণিজ্যে নেমে পড়েছে। যারা তলদেশ চাষ করেছিল তাদের উপর নতুন করে চাপিয়েছে রাজস্ব। এর পুরোটাই পকেটস্থ করছে এইসব অসাধু কর্মচারীরা। জনসাধারনের দাবী তারা বহু চেষ্টা করে পুলিশকে ম্যানেজ করে নদীর তলদেশ দখল নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছে। এবার এখন পর্যন্ত ফসলও উঠাতে পারেনি। অথচও রাজস্ব বিভাগের অসাধু কর্মচারীরা তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। এরা আবার ধান উঠার সময় বস্তা বেধে নদীর তলদেশ চাষ করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধান উঠাবে।

Leave a comment

আরও খবর

  • পবায় স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কেটে দিলেন ছাত্ররা
  • রাজশাহীর বাজারে ‘বোম্বাই’ লিচু
  • বরেন্দ্রের মাটিতে নতুন ফল
  • আত্রাইয়ে গাছের শাখায় ঝুলছে থোকায় থোকায় লিচু
  • কৃষকের উৎসাহে বাদ সেধেছে ধানের দাম
  • শ্রমিক সংকটে দিশেহারা বদলগাছীর কৃষক
  • ধান বিক্রি করতে গিয়ে হতাশ কৃষক, মনপ্রতি দর সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা
  • নার্সারী ব্যবসায় স্বাবলম্বী মোজাম্মেল
  • ফণিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ হাজার ৬৩১ কৃষক : কৃষিমন্ত্রী
  • ফণীতে রাণীনগরে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি
  • ফণীর প্রভাবে পানির নিচে ৪শ হেক্টর জমি
  • পত্নীতলায় ফণীর প্রভাবে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে ধান
  • পোরশায় বোরো ধান ও আমের ক্ষতির আশংকা
  • ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’তে বৃষ্টি, বোরো ধানের ক্ষতি
  • রাজশাহীর আমচাষিদের ‘আশীর্বাদ’ ফণী



  • উপরে