রাণীনগরে ব্রীজের অভাবে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

রাণীনগরে ব্রীজের অভাবে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

প্রকাশিত: ২৩-০৪-২০১৯, সময়: ১২:০৪ |
Share This

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার হরিশপুর-বরাজপাড়া (ঠুনাই ফকির) নামক স্থানে ছোট যমুনার নদীর উপর দিয়ে চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকোই দুই ইউনিয়নের একমাত্র ভরসা কয়েক গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীদের। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই এলাকার মানুষের ভাগ্যকে।

জানা গেছে উপজেলার কাশিমপুর ও মিরাট ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেষা হরিজপুর ও বরাজপাড়া (ঠুনাহ ফকির) নামক স্থানে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর উপর দিয়ে চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা এলাকার মানুষ ও শিক্ষার্থীদের। বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে হরিশপুর, বরাজপাড়া কাশিমপুর, ত্রিমোহনী, কুজাইল, আতাইকুলা, মিরাট, গোনা ও নওগাঁ সদর শৈলগাছী গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। আর বঁশের সাঁকোর পাশে হরিশপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রসা ও হরিশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই দু’টি বিদ্যালয়ে প্রায় তিনশত ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন। ওই স্কুলগুলোর ছাত্র-ছাত্রীরা ও আশপাশের গ্রামগুলো থেকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয় এই জনপদের কৃষক,শ্রমিক ,স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষকে। এমনকি বৃষ্টিপাত শুরু হলেই নদীর দু’পাড়ে কাদা-পানিতে একাকার হওয়ার কারণে সাঁকো থেকে পানিতে পড়ে গুরুতর আহত হবার ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার।

স্থানীয় মো: আয়ুব আলী, ছহির প্রামানিক, আবুল হোসেনসহ অনেকেই জানান, পায়ে হেঁটে সাঁকো পার হয়ে দুই ইউনিয়নের বসবাসকারি জনসাধারণ তাদের প্রয়োজনের তাগিদে জেলা ও উপজেলা সদরে যেতে হয়। যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোন পথ না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষি পন্যসামগ্রী সহজ ভাবে বাজারজাত করতে না পারায় নায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হয়। অনেকটা বাধ্য হয়েই ফড়িয়া ও মহাজনদের কাছে চলমান বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে কৃষিপন্য বিক্রি করতে বাধ্য হয়। স্বাধীনতার ৪৮ বছরের আমাদের এই এলাকায় এখনও আধুনিকতার কোন ছায়াই লাগেনি। ডিজিটাল সময়ে এসেও আজ আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। আমরা জানি না কবে আমাদের এই দু:খ শেষ হবে।

হরিশপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হরিশপুর-ঠুনাইফকির ঘাট নামকস্থানে একটি ব্রীজ নির্মান না হওয়ায় আমার মাদ্রাসার পাশে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ এই বাঁশের সাঁকো দিয়েই পার হওয়া ছাড়া অন্য কোন বিকল্প পথ আর নেই। তাই প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করছি।

রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুল মিঞা জানান, হরিশপুর-ঠুনাইফকির নামক স্থানে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য সকল প্রকারের কাগজপত্রদি উপর মহলে পাঠিয়েছি। শুধুমাত্র অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলেই এখানে ব্রীজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

Leave a comment

আরও খবর

  • পাহাড়ের গুহায় ধ্যানে মোদি
  • চলে গেলেন অভিনেত্রী মায়া ঘোষ
  • ছাত্রলীগে সমস্যার জন্য যাদের দুষছেন রাব্বানী
  • পোরশায় মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্নহত্যা
  • আড়াই মাস পর সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদের
  • ফখরুলের আসনে মান্নাকে উপ-নির্বাচন করার প্রস্তাব
  • ‘ধানের দাম নিয়ে খুবই চিন্তিত প্রধানমন্ত্রী’
  • আ.লীগের বিকল্প অতীতে ছিল না, আগামীতেও থাকবে না : লিটন
  • সাংবাদিক মাহাতাবের মৃত্যুতে পদ্মাটাইমস পরিবারের শোক
  • প্রবাসীর স্ত্রীকে অর্ধনগ্ন করে লাঠিপেটার ভিডিও ভাইরাল
  • ভেজালের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হওয়ার আহবান লিটনের
  • রাজশাহীতে আমরা নতুন প্রজন্মের ইফতার মাহফিল অব্যাহত
  • দেশে প্রতিবছর অকেজো হচ্ছে ৪০ হাজার কিডনি
  • পাবনায় শিক্ষক মারধরে মূলহোতা গ্রেপ্তার
  • বিশ্বকাপে ব্যাকআপ হিসেবে থাকছেন ৬ টাইগার



  • উপরে