চাঁপাইনবাবগঞ্জের তাহারিমা বাংলাদেশের বর্ষসেরা নারী উদ্যোক্তা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তাহারিমা বাংলাদেশের বর্ষসেরা নারী উদ্যোক্তা

প্রকাশিত: ১৫-০৪-২০১৯, সময়: ১৮:৪৪ |
Share This

ডি এম কপোত নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : এসএমই ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিক্রয় এবং ক্রেতা-বিক্রেতার সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এই বছরে ২৩টি জেলা সদরে চলে এস এম ই পণ্য মেলা। গত ১৬ থেকে ২২ মার্চ রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৭ম জাতীয় এস এম ই পণ্য মেলাটি শেষ হয়েছে। জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসএমই উদ্যোক্তাদের অবদান ও অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন পুরুষ ও নারী ক্যাটাগরিতে জাতীয় এস এম ই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০১৯ প্রদান করা হয়েছে।

এবারের মেলাতে সারা দেশ থেকে ২৮০টি এসএমই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে ১৮৮ জন নারী এবং ৯২জন পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মেলায় দেশে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, আইটি পণ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য সিনথেটিক, হস্তশিল্প, ডিজাইন ও ফ্যাশনওয়্যারসহ অন্যান্য মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের স্বদেশী পণ্য প্রদর্শিত ও বিক্রয় হয়। ১৮৮ জন নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে নুর নকশী জাগরণ মেলায় অংশগ্রহণ করে এবং বর্ষসেরা মাইক্রো উদ্যোক্তা নারী ক্যাটাগরীতে মনোনীত হন তাহারিমা বেগম। পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ টাকা, ট্রফি ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় নুর নকশীর সফল উদ্যোক্তা তাহারিমা বেগমের হাতে। অঞ্চল ভিত্তিক ৬টি জেলাকে পেছনে ফেলে তাহারিমা বেগম বর্ষসেরা মাইক্রো উদ্যোক্তা (নারী) নির্বাচিত হন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথায় স্বপ্ন বুনেন পৌর এলাকার ১৫ নং ওয়ার্ড এর তাহারিমা বেগম। ঐতিহ্যের এই স্বপ্নের জমিনে রঙিন সুতার প্রতিটি পোড়ে জড়িয়ে আছে তাঁর ভালোবাসা। বহুমুখী ব্যবহারের চিন্তা থেকে তিনি কেবলমাত্র কাঁথার মায়ায় জড়িয়ে না থেকে ডিজাইনে পরিবর্তন এনে বেড শিট, পর্দা ও গৃহ সজ্জার বিভিন্ন উপকরণ হিসেবে ব্যবহার উপযোগী পণ্য তৈরি করেন।

এই চিন্তা থেকেই ১৯৮২ সালে নিজের তৈরি একটি নকশিকাঁথা ১৩০০ টাকায় বিক্রি করতে পেরে আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠেন তাহারিমা বেগম। গড়ে তুলেছেন ঐতিহ্যবাহী নকশি কাঁথার বিক্রয় কেন্দ্র নুর নকশী। পরিবারের সহযোগীতায় দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে তিনি এই স্বপ্নময় যাত্রায় এগিয়ে চলেছেন। এ পথে গ্রামের অনেক গরীব অসহায় নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তাহারিমা বেগম আজ সফল এক নারী উদ্যোক্তার নাম। তাঁর গড়া প্রতিষ্ঠানটির সুনাম চাঁপাইনবাবগঞ্জের গন্ডি পেরিয়ে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তাহারিমা বেগম আজ তাঁর স্বামী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলেকে এই ব্যবসায় অন্তর্র্ভুক্ত করতে পেরেছেন। তাঁদের পরামর্শে মানসম্মত ও আধুনিক যুগের উপযোগী পণ্য নিয়ে নুর নকশী পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ভারত, নেপাল ও ভূটানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ করে পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করে আসছেন তিনি। ২০১৮ সালে উড়িষ্যার প্রাদেশিক সরকারের আমন্ত্রণে এমএসএমই ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ারে অংশগ্রহণ করে প্রশংসিতও হয়েছেন।

উদ্যোক্তা তাহারিমা বেগম প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সব রকমের সহায্য সহযোগীতা দিয়ে বহু পরিবারকে স্বাবলম্বী করেছেন। নকশিকাঁথা তৈরি সময় সাপেক্ষ বিষয়। স্বল্প সময়ে যাতে নতুন কিছু প্রস্তুত করে বেশি আয় করতে পারে সে পদ্ধতি উদ্ভাবনেও তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তাহারিমা বেগমের প্রতিষ্ঠানে ২২০০ জন মহিলা ও পুরুষ কর্মরত আছে। বর্তমানে নুর নকশী নামটি স্থানীয়, দেশ ও বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। নূর নকশীতে নকশিকাঁথা, হোম ডেকর, হ্যান্ডিক্রাফট ও নকশি ব্যাগ, নকশী চাদর, কুশন কভার পণ্য উদপাদন এবং বিক্রয় করা হয়। শিক্ষা নগরী রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গর্ব আজ তাহারিমা বেগম।

Leave a comment

উপরে