বোরো ক্ষেতে শীষের উকি

বোরো ক্ষেতে শীষের উকি

প্রকাশিত: ০৯-০৪-২০১৯, সময়: ১৬:২৫ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : ধানের কাংখিত দাম না থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বোরো আবাদ। রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো ক্ষেতে শীষ বেরুতে শুরু করেছে। সময়ের পরিবর্তনে খাদ্যের চাহিদা মেটাতে কয়েক বছর থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে চাষিরা বোরো আবাদ করছেন। আগাম বোরো ক্ষেতে পুরোদমে শীষ বেরুনো শুরু হয়েছে। চাষির স্বপ্ন দোল খাচ্ছে বাতাসে বাতাসে।

রাজশাহীতে চাষিরা খাদ্যের চাহিদা মেটাতেই কোমর বেঁধে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। সময়ের তালে তালে প্রায় দেড়মাস ধরে দীর্ঘ মেয়াদী বোরো চারা রোপন করেছেন। রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকদিন আগেও ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করেছেন চাষিরা। চাষিরা এবারে আগাম, সময়মত ও দেরীতে এই তিনপর্বে বোরো রোপন করেছেন। ধান কাটা-মাড়াইও হবে তিন পর্বে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী ৬৫ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দাম ভাল না থাকলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ৯৮৫ হেক্টর (প্রায় ৩৭ হাজার বিঘা) বেশী জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এবারে ৭০ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে।

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার মাঠে মাঠে এখন আগাম লাগানো বোরো ক্ষেতের কোনটিতে শীষে পাক ধরতে শুরু করেছে। আবার কোনটিতে শীষ বেরুচ্ছে। তবে এখনো আলু উঠানো জমিতে কয়েকদিন আগেও চলেছে বোরো রোপনের কাজ।

বিভিন্ন মাঠে মাঠে অপকিল্পিত পুকুর হওয়ায় এবং পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বোরোর চারা লাগাতে হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগিরা। এমন অবস্থার জন্য জেলার বরেন্দ্র অঞ্চল বলে খ্যাত গোদাগাড়ি ও তানোর উপজেলায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনেক আগে থেকে শীত উপক্ষো করেও চাষিরা বোরো আবাদ রোপন করেছেন। বিশেষ করে এসব বোরো ক্ষেতেই ধানের শীষে পাক ধরতে এবং শীষ বেরুতে শুরু করেছে।

তানোরের বেলখড়িয়া গ্রামের বোরো চাষি সিরাজ উদ্দিন খান ও মোহনপুর উপজেলার মৌপাড়া গ্রামের কৃষানী চামেলী রানী বলেন, তাদের ক্ষেতের ধান ১০ দিনের মধ্যে কাটা যাবে। তবে তাদের এলাকায় বেশীরভাগ জমিতে বোরো ক্ষেতে শীষ বেরুচ্ছে।

আগাম লাগানো জেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, জেলায় বিভিন্ন জাতের বোরো আবাদ হয়েছে। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রিধান-২৮, ২৯, ৪৯, ৫০, ৫২, ৬২, বিআর-১৫, ১৬ এবং কিছু জমিতে হাইব্রিড। তবে এবারে বোরো বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি না থাকায় বোরো চারা সতেজ ছিল এবং ফলন ভালর সম্ভাবনা রয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মজিবর রহমান বলেন, বোরো চারা রোপণের উপযুক্ত সময় ১৫ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। এবারে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি হলেও চাষিরা শীতকে উপেক্ষা করেই ধানের চারা রোপণ করেছেন। অনেকে এখন আলু তুলে বোরো চারা রোপন করেছেন।

এ ব্যাপারে জেলা সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, অন্যান্য দ্রব্যমূল্যের তুলনায় ধানের দাম কম এটা সত্যি। তবে এমন নয় যে চাষিদের লোকসান হচ্ছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে এই দামেও চাষিরা লাভবান হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a comment




উপরে