পড়াশুনা চালিয়ে যেতে চান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মাফিয়া

প্রকাশিত: ২৬-০২-২০১৯, সময়: ১৭:৩৪ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাণীনগর : যারা উদ্যোমী ও পরিশ্রমি কোন বাধা-বিপত্তিই তাদের দমিয়ে রাখতে পারে না। তারই এক অন্যন্য দৃষ্টান্ত প্রতিবন্ধি মেয়ে মাফিয়া। প্রথমত সে প্রতিবন্ধি, দ্বিতীয়ত নারী। আরেকটি বড় সমস্যা তার জন্মহত দরিদ্র এক ভ্যান চালকের পরিবারে। সে এখন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের একজর শিক্ষার্থী। কিন্তু অর্থের অভাবে আগামীতে পড়াশুনা চালাতে পারবে কিনা তাই নিয়ে শংকিত মাফিয়া ও তার পরিবার। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সমাজের বিত্তবান থেকে শুরু করে সকলের সবার সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছে অদম্য মেধাবী মাফিয়া খাতুন।

মাফিয়ার জন্ম নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের খট্রেশ্বর গ্রামে এক হত দরিদ্র ভ্যান চালক আমজাদ হোসেনের ঘরে। মাফিয়ার পরিবারে দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মাফিয়াই বড়। লেখাপড়া শেষ করে চাকুরী করে নিজে স্বাবলম্বি হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সেবা করতে চায় মাফিয়া। অপরদিকে তার পরিবারের স্বপ্ন তার মেয়ে উচ্চ পড়ালেখা শেষ কওে একটি বড় চাকুরী করবে। আদৌ কি ভ্যান চালক পরিবারের এই স্বপ্ন পূরন হবে? প্রতিবন্ধি মাফিয়া কি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে সমাজে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবে?

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি অদম্য মেধাবী মাফিয়া। তাই অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হয় তাকে। কিন্তু শিশুকাল থেকেই শিক্ষা জীবনে কখনও হার মানেনি মাফিয়া। মা আর বাবার প্রেরণায় ও অক্লান্ত সহযোগীতায় শত বাধা আর বিপত্তিকে পেছনে ফেলে সে এখন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। এর ওর কাছ থেকে পাওয়া অর্থ, নিজের প্রতিবন্ধি ভাতা আর ভ্যান চালক বাবার ঘাম ঝড়ানো অর্থ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেও বর্তমানে সেখান থেকে পড়ালেখা চালানো নিয়ে শংকায় রয়েছে মাফিয়া ও তার গরীব পরিবার। জন্ম থেকেই আর্থিক অনটন আরও মাফিয়ার পিছু ছাড়েনি। তবুও মাফিয়া আরো সামনে এগিয়ে যেতে চায় আর এর জন্য প্রয়োজন সবার সার্বিক সহযোগীতা।

প্রতিবন্ধি মাফিয়া খাতুন বলেন, সীমাহীন দু:খ আর কষ্ট আমাকে আলাদা করতে পারেনি শিক্ষা জীবন থেকে। প্রাথমিক থেকে সিঁড়ি বেয়ে এবা পা রেখেছি উচ্চ শিক্ষার গন্ডিতে। অর্নাসে ভর্তি হয়েছি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। কিন্তু আমি জানি না আগামী দিনগুলো আমার কিভাবে যাবে? পারিবারে রয়েছে আরো ক’জন ভাই বোন। ভ্যান চালক বাবা তাদের চালাবে না আমাকে পড়ালেখার খরচ দিবে। মা আর কত দিন আমার জন্য মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করবে। তাই আমি সমাজের বিত্তবান মানুষদের সহযোগীতা কামনা করছি আমাকে হাত ধরে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

প্রতিবেশী আবুল কালাম বলেন, মাফিয়া অত্যন্ত মেধাবী ও দুর্গম মনের মেয়ে। সহজে সে ভেঙ্গে পড়ে না। তা আমরা দেখে আসছি। অনেক যুদ্ধ করে মাফিয়ার বাবা-মা তাকে পড়ালেখা করিয়ে আসছে। আমরাও যতটুকু পারি মাফিয়াকে সহযোগীতা করে আসছি। তবে দেশের বিত্তবানদের এধরনের মানুষের জন্য বড় ধরনের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।

মাফিয়ার মা সামেনা বিবি বলেন, আমার এই প্রতিবন্ধি মেয়ের লেখাপড়ার জন্য কত যায়গায় গিয়েছি। কেই সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আবার কেউ ফিরিয়ে দিয়েছে। আমি আমার মেয়ের লেখাপড়ার জন্য তার স্বপ্ন পূরণ করা জন্য মানুষের বাড়িতে ও জমিতে কাজ করেছি। আমি আমার মেয়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য সমাজের সবার সহযোগীতা চাই। মাফিয়ার বাবা রিকশা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। মেয়ের পড়ালেখার খরচ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন মাফিয়ার বাবা।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, মাফিয়ার ভর্তির সময় তারা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগীতা করেছে। কিন্তু তাঁদের সবকিছুতেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আগামীতে তার পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য দেশের বিত্তবানদের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়ানোর আহবান জানান তিনি। মাফিয়ার মা সামেনা বিবির মোবাইল নম্বর:- ০১৭৭০৬৩৭৬৪৫ ও মাফিয়ার বিকাশ নম্বন:- ০১৯৪২৫৩২৩১৬।

উপরে