পাগলা নদীতে পানি সংকটে সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না গঙ্গাস্নান!

পাগলা নদীতে পানি সংকটে সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না গঙ্গাস্নান!

প্রকাশিত: ১১-০২-২০১৯, সময়: ১৭:৩৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ : আদিকাল হতে হিন্দুদের তীর্থ স্থান জহ্নিমনির আশ্রম পাগলা নদীতে পানির সংকটের কারণে মঙ্গলবার গঙ্গাস্নান সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না উত্তরবঙ্গের হিন্দুসম্প্রদায় হতাশা।

শিবগঞ্জ উপজেলার তর্তিপুর মহাশশ্মান কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী কমল কুমার ত্রিবেদী জানান, তর্তিপুর মহাশশ্মান এলাকায় প্রতিবছরই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা হতে লক্ষাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থ স্থান তর্তিপুর মহাশশ্মান এলাকায় জীবনের সমস্ত পাপ মোচনের আশায় গঙ্গাস্নান করতে আসে। আমাদের ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী মঙ্গলবার এ বছরের জন্য আমাদের স্নান নির্ধারিত দিন ধার্য হয়েছে। কিন্তু দু:খের বিষয় এ বছর তর্তিপুর ঘাটে নদীতে পানি না থাকায় আমরা মহাসংকটে পড়েছি। মুলত পানি না থাকার কারণ নদীর পশ্চিমে ভারতের গঙ্গা নদীতে ভারত সরকার বাঁধ দেয়ার কারণেই পানি আসতে না পারায় তর্তিপুর ঘাটে পানি শূন্যতা দেখা দিয়েছে। ঘাটে পানি ছাড়া আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাপ মোচনের স্নান করা সম্ভব নয়।

আর এ স্নান করতে না পারলে লক্ষাধিক হিন্দু ধর্মাবলী দু:খ ভারাক্রান্ত মনে ফিরে যাবে বলে মত দিয়েছেন তিনি। একই কারণে হতাশাগ্রস্থ তর্তিপুর মহাশশ্মান কমিটির সহসভাপতি প্রদীপ গড়গড়িয়া, কোষাধ্যক্ষ অঞ্জন কুমার, সদস্য মটর চন্দ্র সাহা, গণপতি বারিক, পুরোহিত মনোরঞ্জন মিশ্র, ভঞ্জন কুমার মনিগ্রাম, প্রশান্ত কুমার দাস, প্রশান্ত কুমার সাহাসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় শতাধিক মানুষের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওই ঘাট এলাকায় ৭০-৮০ ফিট দীর্ঘ ও ২০-২৫ ফিট প্রস্থ এবং ৮-১০ ফিট গর্ত করে পার্শ্ববর্তী গভীর নলকুপ ও স্যালোমেশিন থেকে পাইপের মাধ্য্যমে পানির ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক হিন্দু সম্প্রদায়ের এ মহাশশ্মানের সুযোগ করে দেয়া দাবি জানান। তারা বলেন- যদি পানির সংকটের কারণে এ মহাশশ্মান হতে বঞ্চিত হই তবে ধর্মীয়ভাবে চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবো।

এ বিষয়ে জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বরমান হোসেন জানান- বিষয়টি অত্যন্ত জরুরী। আমি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী রওশন ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পানির অভাবে নানা বিদ ক্ষতি হতে পারে। সনাতন ধর্মের সমস্যা, কৃষকদের সেচ ব্যাহত, পরিবেশের ভারসাম্যসহ নানাবিদ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। জরুরী ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পানির ব্যবস্থা করে হিন্দুদের মহাশশ্মানের ব্যবস্থা করাসহ পানি সংকট নিরসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপরে