তফসিলের আগেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটের হাওয়া

তফসিলের আগেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটের হাওয়া

প্রকাশিত: ১১-০২-২০১৯, সময়: ১৪:৪০ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জমে উঠেছে উপজেলা নির্বাচন। তবে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রকাশ্যে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে গেলেও এখানে বিএনপি ও জামায়াত খুবই গোপনে সরব রয়েছে পুরো জেলা জুড়ে। এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান, সহকারী চেয়ারম্যান ও মহিলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মিলিয়ে শতাধিক হরেও চেয়ারম্যান প্রার্থী ক্ষমতাশীন দলের পাঁচ উপজেলায় পাঁচ জন হবেন। তবে পাঁচ উপজেলার সদর, নাচোল ও ভোলাহাট নিয়ে কোন ধরনের জট না থাকলেও সবচেয়ে বড় উপজেলা শিবগঞ্জে ইতোমধ্যেই জট বেধেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে।

এই উপজেলা এতদিন নিয়ন্ত্রণ করে এসেছেন মন্ত্রণালয়ের একজন সচিব ও কুমিল্লা জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার। তাদের দু’জনের বাড়ী শিবগঞ্জে। এর মধ্যে সচিব অবসরে যাওয়ায় এখন প্রখর ও প্রচন্ড ভাবে শিবগঞ্জ মাতিয়ে রেখেছে কুমিল্লার বর্তমান পুলিশ সুপার। এই পুলিশ সুপারের আপন ভাই শিবগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান। তার নাম নজরুল ইসলাম। জেলার তিনটি আসনের একমাত্র আসনে মহাজটের বিজয়ী এমপি ও সাবেক এমপি ও মন্ত্রী সহ উপজেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী নজরুল ইসলামকে সমর্থন দিলেও বর্তমান উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি বিদ্যুৎ আন্দোলনের নেতা গোলাম রাব্বানী নজরুল ইসলামকে সমর্থন দিচ্ছেনা।

এই নিয়ে নজরুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন তার শিবগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের কোন কমিটি নেই। বর্তমান সভাপতি সাবেক এমপি গোলাম রাব্বানী তার আপন ছোট ভাইকে উপজেলা চেয়ারম্যান করতে চান। পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান নিজেই একজন প্রার্থী হবার কারনে তারা তাদের মতো করে কেন্দ্রে নাম পাঠিয়েছে। শিবগঞ্জ পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগের বর্তমান সভঅপতি ও সম্পাদক জনাব গোলাম রাব্বানী ও আতাউর রহমানকে নিয়ে একটি জোট। যাদের সমর্থন দিয়ে আসছিল এতদিন মন্ত্রণালয়ের এক সচিব।

তিনি অবসরে যাবার পর এখন কুমিল্লার পুলিশ সুপারের দপদপা খুবই বেশী। যার কারনে সদরে সাংবাদিক সম্মেলন করে উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের উল্লেখ করতে গিয়ে বার বার কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে টেনে এনেছেন। এই প্রভাবশালী পুলিশ সুপার নাকি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে তার ভাইয়ের মনোনয়ন নিশ্চিৎ করতে কাজ করছেন। উল্লেখ্য, এই উপজেলা চেয়ারম্যান একজ জামায়াত নেতা। এবার তিনি প্রার্থী হতে পাবেন।

অপর উপজেলা গোমস্তাপুর। এখানেও স্থানীয় ভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন মামুনর রশীদ। তিনি তৃনমূলের মনোনীত প্রার্থী। তার অভিযোগ জেলা কমিটির উপর। তাকে সমর্থন দিয়েছেন বিগত সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী গোলাম মোস্তফা ও তার ভাই গোলাম রাব্বানী বিশ্বাস সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকরা। মামুনর রশীদ বলেন বর্ধিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি একক ভঅবে মনোনয়ন পেয়েছেন।

কিন্তু জেলা কমিটি চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মামুনের নাম দিলেও মন্তব্য কলমে বেশ কিছু বিরুপ মন্তব্য করেছে। যাকে মামুন মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। উপজেলা কমিটি রেজুলেশান মোতাবেক মামুনর রশীদকে তারা মনোনয়ন প্রদানের জন্য দাবী জানান কেন্দ্রের কাছে। উল্লেখ্য যে গোমস্তাপুর উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান একজন বিএনপি সমর্থক বলে জানা গেছে।
অনুরুপভাবে ভোলাহাট উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি সমর্থক হলেও এবার এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ১০ এর অধিক। তবে তারা সবাই রয়েছেন দল থেকে মনোনয়ন দিবে তার জন্যই তারা কাজ করবেন। অপর উপজেলা নাচোল। এখানেও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছড়াছড়ি। এখানের উপজেলা চেয়ারম্যান একজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের। তিনি প্রার্থী হবেন কিনা? এ ব্যাপারে তার মতামত পাওয়া যায়নি। তবে সমর্থকরা বলেছেন তিনি অবশ্যই প্রার্থী হবেন।

এবার আসা যাক সদর আসনে। এখানে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান একজন জামায়াত সমর্থক। এখানে জেলা পরিষদের সদস্য জনাব হাকিম সহ মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ডজনের কাছাকাছি। তবে জামায়াত সমর্থক চেয়ারম্যান এবারও প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে অনেক এগিয়ে রয়েছেন হাকিম সাহেব।

পাঁচটি উপজেলাতেই বিএনপি, জামায়াত সমর্থকরা প্রাথী হবার প্রত্যাশায় নড়েচড়ে বসেছেন। তবে নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাটে জামায়াত কোন প্রার্থী না দিলেও বিএনপিকে সমর্থন দিবেনা বলে জানা গেছে। তবে গোমস্তাপুর, শিবগঞ্জ ও সদরে বিএনপি শক্তিশালী প্রার্থী সেট করতে পারে বলে জানা গেছে। তবে শিবগঞ্জের বিএনপি সমর্থক কর্মীরা জানিয়েছেন তার দল প্রার্থী না দিলেও তারা জামায়াতকে সমথৃন দিবেনা। গত নির্বাচনে একমাত্র এই আসনেই মহাজোট প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াত বিএনপির এই টানা পোড়ন অব্যাহত থাকলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী লাভবান হবে। এই উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান জামায়াতের খুবই প্রভাবশালী নেতা।

উপরে