স্বপনকে মন্ত্রী দেখতে চায় জয়পুরহাটবাসী

স্বপনকে মন্ত্রী দেখতে চায় জয়পুরহাটবাসী

প্রকাশিত: ০৫-০১-২০১৯, সময়: ১০:২৪ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বিপুল ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। ২ লাখ ২ হাজার ৬১০ ভোটের ব্যবধানে তিনি এবার এ আসনে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির পরপর চারবার নির্বাচিত প্রার্থী ২৬ হাজার ১২০ ভোট পেয়ে এ আসনে এবার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে জামানতই হারিয়েছেন।

বিএনপির দূর্গে আওয়ামী লীগের এই সাংসদ পরপর দুইবার হানা দেওয়ায় খুশি জয়পুরহাটবাসী। দীর্ঘ তিন যুগের বেশী সময় পার হয়ে গেলেও জয়পুরহাটবাসীর কপালে জোটেনি কোন মন্ত্রী। তাই এবার সুযোগ বুঝে বিপুল ভোটে জয়লাভ করায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পরপর তিন বারের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুই বারের নির্বাচিত সাংসদ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে তার নির্বাচনী এলাকা জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুরের) মানুষ মন্ত্রীসভায় দেখতে চায়। এ চাওয়া পুরো জয়পুরহাটের মানুষের। তাদের প্রত্যাশা, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যে নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করা হবে, সেখানে যেন তাকে স্থান দেওয়া হয়। সংসদ নেতা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জয়পুরহাটবাসীর প্রানের দাবী, জননেতা স্বপনকে একবারের জন্য হলেও মন্ত্রীসভায় স্থান দিবেন তিনি।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধলাহার ইউনিয়নের রামকৃষ্নপুর গ্রামে জন্ম নেয় স্বপন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরণ আস্থাশীল হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে জড়ান। সে সময় থেকে আজ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে নিজেকে বিলিয়ে দেন। স্বপনের এই ভূমিকার মূল্যায়ন করে শেখ হাসিনা তাকে ২০০৮ সালে জয়পুরহাটের এ আসনে প্রথম মনোনয়ন দেন। এর পরপরই তাকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও দেন তিনি। ওই সময় থেকে তিনি পরপর তিনবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুইবার এ আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন। তার আগে এ আসনে বিএনপির আবু ইউসুফ মোঃ খলিলুর রহমান ও প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা সাংসদ থাকলেও এলাকার উন্নয়নমূলক তেমন কোন কাজ করতে পারেনি তারা।

কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর উপজেলা থেকে শুরু করে পুরো জয়পুরহাট জেলা তথা বগুড়া-জয়পুরহাট মহাসড়কের প্রসস্তকরণ, জয়পুরহাট শহরে আড়াই কিলোমিটার সড়ক ফোরল্যান্ড করন, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় নতুন নতুন ভবন নির্মাণ, হাইটেক পার্ক, এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মসজিদ ও মন্দিরগুলোতে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে কাবিখা, টিআর এবং কাবিটার অর্থ বিতরণ, পুরো জেলাতে শত ভাগ বিদ্যুৎতায়ন ঘোষনাসহ শত শত কোটি টাকার কাজ তার হাত ধরে হয়েছে। অল্প সময়ে এলাকায় এত উন্নয়নের কারণে তাকে জয়পুরহাটের উন্নয়নের রূপকার আখ্যা দিয়েছেন জয়পুরহাটবাসী।

২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথম জীবনে ও প্রথম নির্বাচনে অল্প ভোটে হেরে যান বিএনপির প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফার কাছে। বিএনপি ও জামায়াত মিলে সেই নির্বাচনে তাকে হারিয়েছে বলে অভিযোগ আছে। সে সময় এলাকার সংখ্যালঘু ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেয়নি বিএনপি ও জামায়াত নেতারা। বিএনপি ও জামায়াতের জেলা ব্যাপি জ্বালাও-পোড়াও, প্রেট্রোল বোমা ও আন্দোলনের নামে অগ্নি-সন্ত্রাস কঠোর হাতে দমন করেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তখন থেকে তিনি এলাকার উন্নয়নসহ পুরো জেলার উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রাখেন। তার আমলে ক্ষেতলাল পৌরসভা গঠন, কালাই পৌরসভা প্রথম শ্রেণীতে উন্নিতকরণ, তিন উপজেলার তিনটি মাধ্যমিক স্তরের স্কুল ও দুইটি ডিগ্রি কলেজ জাতিয়করণ, পুরো জেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়িত ঘোষণাসহ নানা ধরনের কাজ আজও অব্যাহত আছে।

সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় জয়পুরহাটবাসী তাকে মন্ত্রীসভায় দেখতে পারবে বলে এখন প্রতিক্ষার প্রহর গুনছেন। তাহলেই আগামী দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরণ আস্থাশীল থেকে কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর আসনের প্রতিটি গ্রামকে শহর, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহানগরের ন্যায় শিক্ষার মান নিশ্চিত এবং দারিদ্রমুক্ত ও বেকারমুক্ত আধুনিক জয়পুরহাট বির্নিমাণ করা সম্ভব হবে।

কালাই উপজেলার হাতিয়র কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও মহাসচিব শিক্ষাট্রাস্ট কালাইয়ের আমিনুল ইসলাম বলেন, সাংসদ স্বপনের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সব ধরনের যোগ্যতা আছে। সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগেই তিনি পুরো জেলাসহ তার নির্বাচনী এলাকায় সততা ও নিষ্টার সাথে উন্নয়ন যেভাবে করেছেন, এখন তার পক্ষে সাড়া দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব। জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকটে এখন জয়পুরহাটবাসীর একটাই প্রানের দাবী, স্বপনকে যেন একবারের জন্য হলেও নতুন মন্ত্রীসভায় স্থান করে দেওয়ার জন্য সবিনয় অনুরোধ করেন।

জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন বলেন, আওয়ামী লীগের মত একটি বড় দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পরপর তিনবার সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুইবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন নিজ এলাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে বেশ সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সর্বক্ষেত্রে স্বপনের ব্যাপক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচনের আগে এ আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কালাই সরকারি ময়েন উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা করেছেন।

সে দিন প্রধানমন্ত্রী কাছে আমরা ওয়াদা করেছিলাম, এ আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে স্বপনকে নির্বাচিত করে আপনাকে উপহার দিব। আপনি শুধু আমাদের স্বপনকে মন্ত্রীসভায় স্থান দিবেন। জয়পুরহাটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী, জননেত্রী শেখ হাসিনা যেন, স্বপনকে নতুন মন্ত্রীসভায় স্থান করে দেন।

আরও খবর

  • ঈদে ট্রেনের আগাম টিকিট ২৯ জুলাই থেকে
  • ধামইরহাটে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা
  • আদালতে মিন্নির জামিন চেয়ে আবেদন
  • আম্মু নিচে গেছে ড্রেস আনতে
  • রাজশাহী নগরের ছেলেধরা সন্দেহে একজনকে গণপিটুনি
  • বগুড়ায় ছেলেধরা সন্দেহে চারজনকে গণপিটুনি, পিকাআপে আগুন
  • প্রিয়া সাহাকে বহিস্কার
  • একসাথে হাঁটবে না বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট
  • ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে নিয়ে ধর্ষণ
  • ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন ২ নারীকে নির্যাতন
  • সুমনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন
  • গুজবে গণপিটুনি ঠেকাতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ
  • সিংড়ায় ছেলেধরা সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ
  • মিন্নির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নয়ন বন্ডের মোটা অংকের টাকা
  • রাজশাহীতে ছেলেধরা সন্দেহে ৫ এনজিও কর্মীকে গণধোলাই



  • উপরে