চিকিৎসক-সেবিকা সংকটে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিৎসক-সেবিকা সংকটে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশিত: ০৬-১১-২০১৮, সময়: ১০:১৭ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : চিকিৎসক ও সেবিকা সংকটে নিজেই দূরারোগ্য ব্যধিতে ভুগছেন। ফলে ভেঙ্গে পড়েছে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা কার্যক্রম। এছাড়াও হাসপাতালের এক্সরে ও আল্ট্রাসনো যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। ফলে প্রায় চার লাখের অধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই উপজেলার গরীব ও অসহায় মানুষরা সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৩১ শয্যার হাসপাতালটিতে ১৭ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কাগজে-কলমে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। এদের মধ্যে একজন ছুটিতে, দুইজন ঢাকায় প্রশিক্ষনে। ডঃ ফয়সাল নাহিদ ও ডাঃ আরিফুজ্জামান মাত্র এ দুইজন ডাক্তার দিয়েই কোন রকমে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। আবার এ দু’জনের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও)। তিনি প্রায় সময়ই দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। বাকি একজন বর্হিবিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। অনেক সময় এদের একজন ছুটিতে গেলে এই সংকট আরও প্রকট হয়।

সিনিয়র স্টাফ নার্সের ২০ টি পদের মধ্যে ১৪টি পদই শুন্য। নার্সিং সুপারভাইজার ২টি পদের ২টিই শুন্য। তাই তাঁরা ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এছাড়াও শিশু ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য নেই কোনো আলাদা ওয়ার্ড।

জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে ২০১০ সালে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯ শয্যা বিশিষ্ট নতুন একটি ভবনের নির্মাণ করা হয়। সাত বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে আজও চালু করা যাইনি হাসপাতালটির ৫০ শয্যার কার্যক্রম।

গত ১৮ অক্টোবর সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ৫ জন ডাক্তারের মধ্যে ডাঃ সুব্রত রয়েছেন ছুটিতে। ডঃ এনামুল ও ডাঃ কবির ঢাকায় প্রশিক্ষনে। ডঃ ফয়সাল নাহিদ ও ডাঃ আরিফুজ্জামান মাত্র এ দুইজন ডাক্তার দিয়েই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। সিভিল সর্জন আসবে বলে এ দুজন ডাক্তারও রয়েছেন ব্যস্ত। ফলে কোনো চিকিৎসককে না পেয়ে ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করছে গাবতলীর তারেক রহমান। তিনি জানান প্রায় আধা ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন তিনি। পুনরায় গত ৪ নভেম্বর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গেলে আগের চিত্রই দেখা যায়।

হাসপাতালের পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, দুই ওয়ার্ড জুড়ে চারজন সেবিকা দায়িত্বে আছেন শুধু আজকের জন্য, সিভিল সার্জন আসবেন বলে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাকী দিনগুলোতে একজন দু’জন সেবিকা দিয়েই চলে কার্যক্রম। জানতে চাইলে সেবিকা ইনচার্জ জলি পারভীন বলেন, ‘এই হাসপাতালে আমরা ২০ জনে মাত্র ছয়জন সেবিকা আছি। আমরা কেউ ছুটিতে গেলে সেবিকা সংকটে রোগীদের যেমন সমস্যা হয়, তেমনি আমাদেরই অনেক কষ্ট করে কাজ করতে হয়।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শ^াস কষ্টের সমস্যা নিয়ে ৩ দিন থেকে ভর্তি রয়েছেন উপজেলার ঝাঝিরা গ্রামের সাবের আলী (৬৫)। তিনি জানান, চিকিৎসাপত্রের বেশীর ভাগ ঔষধ কিনতে হয় বাহির থেকে। একই রকম অভিযোগ ওই ওয়ার্ডের আরেক রোগী সদর ইউনিয়নের মুড়িহারী গ্রামের লুৎফরের।

ঔষধ না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মাসিস্ট হারেজ আলী জানান, “চাহিদার তুলনায় ঔষধ সরবরাহ কম থাকায় বিশেষ করে বি-কমপ্লেক্স, প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন, ক্যালসিয়াম জাতীয় ঔষধ তারা সপ্তাহে ৫ দিন ঠিকমত দিতে পারেন। বাকী দুদিন রোগীরা এ জাতীয় ঔষধ না পেয়ে ফিরে যান।”

রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিকেলে ও রাতে বেশিরভাগ সময় এই হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক থাকে না। প্যারাসিটামল, অ্যান্টিসিডের মতো মাত্র কয়েক প্রকার ওষুধ ছাড়া হাসপাতাল থেকে অন্য কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না। বতৃমান সরকার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আগে যেমনটি ছিল এখনও তাই আছে। মনে হচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই দূরারোগ্য ব্যধিতে ভুগছেন।

এক্সরে ও আল্ট্রসনো যন্ত্র নষ্ট হয়ে থাকায় রোগীদের অধিক টাকা ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক্সরে ও আল্ট্রাসনো করাতে হচ্ছে। অথচ উপজেলা মাসিক সভায় এ নিয়ে বার বার কথা হয় এবং এক্সরে ও আ্রাসনোগ্রাফী মেশিন সারানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। অভিযোগ রয়েছে, ভর্তি রোগীদের সরবরাহ করা খাবারের মানও ভাল নয়। হাসপাতালের বিছানা, চাদর ও মশারিও অপরিচ্ছন্ন। স্যানিটেশন ব্যবস্থা খুবই খারাপ। বাথরুমের উৎকট গন্ধ সবসময় বিরাজ করে দুই ওয়ার্ডে। সার্বক্ষনিক এর গন্ধে সুস্থ্য মানুষও অসুস্থ্য হয়ে পড়বে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাঃ ফয়সাল বলেন, ‘চিকিৎসক-সেবিকা এবং যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে রোগীদের চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রশিক্ষণ, দাপ্তরিক কাজ কিংবা চিকিৎসকরা ছুটিতে থাকার কারণে অনেক সময় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয় হাসপাতালে। তবে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Leave a comment

আরও খবর

  • মহাপরিচালকের আদেশ অমান্য করে রাজশাহীতে স্বাস্থ্য পরিদর্শকে পদায়ন
  • হাজিরা না দিয়েও প্রতি মাসে বেতন উত্তোলনের অভিযোগ
  • ঘরোয়া ৬ টোটকায় সারান পেট খারাপ
  • খাদ্য তালিকায় তেঁতুল রাখবেন যে কারণে
  • গোদাগাড়ীতে ফ্রি ডেন্টাল এ্যান্ড ডায়াবেটিক ক্যাম্প
  • বর্তমান সরকারের আমলে উন্নত গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্য সেবা
  • গর্ভাবস্থায় রক্তপাত মানেই গর্ভপাত নয়
  • মাত্র এক গ্লাসেই উধাও হবে পাকা চুল!
  • অ্যাজমা কেন ও কীভাবে হয়?
  • চিকিৎসক-সেবিকা সংকটে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
  • নাচোলে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ১ জনের মৃত্যু
  • সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গুনতে হয় বাড়তি টাকা
  • আবহাওয়ার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে ব্যথার কোন সম্পর্ক আছে কি?
  • ভোলাহাটে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
  • ডা. দেবী শেঠীকে একদিন হলেও রাজশাহীতে আনার চেষ্টা করবো : মেয়র লিটন


  • উপরে