পাবনায় নদীতে ভাসমান মৎস খামার করে মৎসজীবীরা স্বচ্ছল

পাবনায় নদীতে ভাসমান মৎস খামার করে মৎসজীবীরা স্বচ্ছল

প্রকাশিত: ১৪-০২-২০১৮, সময়: ১৪:৪৯ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনায় নদীতে ভাসমান মৎস খামারে মাছ চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল হচ্ছে বড়াল ও গুমানী নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। ভাসমান মৎস খামারে তুলনামুলক কম খরচে মাছ চাষ করা যায়। সে কারনে এই মাছ চাষ অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক। কম খরচ করে অধিক লাভ পাওয়ায় নদী এলাকার মৎসজীবীরা এখন এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে ক্রমেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এলাকার সহ দেশে মৎস চাহিদা পুরুনেও ব্যাপক ভূমিকা রাখেছে।

ভাসমান মৎস খামারে মাছ চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার পুঙ্গলী ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, উন্মুক্ত নদীতে স্থানীয় বাঁশ, জাল ও প্লাষ্টিকের ড্রাম দিয়ে তৈরি ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ এবং ৬ ফুট গভীর ভাসমান মৎস খাচায় এক হাজার থেকে বার শত মনোসেক্স মাছের পোনা চাষ করা হয়। প্রতি কেজি মাছ উৎপাদন করতে খরচ হয় ৮০ থেকে ৯০ টাকা। প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর স্থানীয় বাজারে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয় এসব মাছ। সফল মৎস চাষী হাফিজুর রহমান আরো জানান, চাঁদপুর জেলার ডাকাতিয়া নদীতে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা দেখে তিনি অনুপ্রানিত হয়ে ২০১০ সাল থেকে নিজ এলাকার বড়াল নদীতে ভাসমান মৎস খামারে মাচ চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করে তিনি এখন অনেকটাই স্বচ্ছল। তিনি রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ মৎসজীবী হয়ে ২০১৪ সালে জাতীয় কৃষি পুরস্কার ও ২০১৫ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার লাভ করেছেন।

ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষে হাফিজুর রহমানের অর্থনৈতিক সাফল্য দেখে ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার নাজিমুদ্দিন এবং আব্দুর রাজ্জাক সহ অনেকেই এখন এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এলাকার মৎসজীবীরা জানান, নদী সংশ্লিষ্ট এলাকার মৎসজীবীদেরকে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করে সহজ শর্তে আর্থিক ঋণ সুবিধা প্রদান করলে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষের আরো অধিক সুফল পাওয়া যাবে এবং এলাকার দরিদ্র মৎসজীবীদের দরিদ্রতা দূরিকরণে ব্যাপক ভুমিকা রাখতে পারে।

ভাসমান মৎস খামারি হাফিজুর রহমান, নাজিমুদ্দিন এবং আব্দুর রাজ্জাক দরিদ্রতা দূরিকরণে সরকারে পাশাপাশি এলাকার বেকার যুবকদের নদীতে ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে নিজের এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার আহবান জানান।

পাবনা জেলা মৎস কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, জেলার ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার উপর দিয়ে বযে যাওয়া বড়াল ও গুমানী নদীতে ভাসমান মৎস খামারে মাছ চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল হচ্ছে স্থানয়ী মৎস চাষীরা। বিষয়টির ব্যাপক প্রচার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সহ সহযোগিতায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধাও দেয়া হচ্ছে। তবে আগ্রহী বেকার যুবক ও মৎস চাষীদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছি।

আরও খবর

  • খুলনা গেলেন রাসিক মেয়র লিটন
  • বাঘায় পদ্মায় ডুবে প্রাণ হারালো স্কুল ছাত্র
  • জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন যাঁরা
  • জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাবে সাড়া দিলেন যাঁরা
  • ‘মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের অধিকার জাতিসংঘের নেই’
  • বাগমারায় আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
  • মোহনপুরে দেড় হাজার বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, আটক ২
  • পুঠিয়ায় পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু
  • নাটোর-৪ আসনে আ.লীগ নেতার শোডাউন
  • গিনেজ বুকের স্বীকৃতি পেল ‘স্বচ্ছ ঢাকা অভিযান’
  • বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন
  • গোদাগাড়ীতে জামায়াত নেতা ওয়ার্ড কাউন্সিলর গ্রেপ্তার
  • রাবির দশম সমাবর্তনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি
  • রাজশাহীর পদ্মায় কিশোরীর লাশ
  • বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসা নেবেন কিনা জানাতে সময় নিলেন খালেদা


  • উপরে