বৃত্তির সংশোধিত ফল প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

বৃত্তির সংশোধিত ফল প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

প্রকাশিত: ২২-১২-২০১৬, সময়: ১৮:৩০ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে প্রকাশিত ২০১৫ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল বাতিল  করে সংশোধিত ফল প্রকাশ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সুশিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ।
বেলা ১১টার সময় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের পক্ষে এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন রাজশাহীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক দেওয়ান মোহাম্মদ শাহরিয়ার ফিরোজ। তিনি বলেন, তারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় এই স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রেরণের ব্যবস্থা করবেন। এ সময় সংগঠনের আহবায়ক ফারুক হোসেনসহ অভিভাবক আব্দুল হাদি, হাসিনা আক্তার, কামরান আলী, আমিনা আনসারী, আম্বিয়া খাতুন, মিঠন আলী সরদার, সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি দেওয়ার পরে সুশিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ এর আহবায়ক ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষানগরী হিসেবে খ্যাত রাজশাহীতে এই রকম ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নম্বর টেম্পারিং করে যে বাচ্চাগুলোকে এই বৃত্তি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে তারা পরবর্তীতে  মনে করবে এইভাবেই ভালো ফলাফল কিনতে পাওয়া যায়। আর যারা ভালো পরীক্ষা দিয়েও বৃত্তি পায়নি তাদের মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন আমরা করতে পারলাম না। তারা চিরদিন হতাশায় ভুগবে।  তিনি বলেন, তারা এর আগে মানববন্ধন করেছেন, অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কিন্তু কর্তৃপক্ষে কাছ থেকে প্রতিকারমূলক কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে রাজশাহীর বোয়ালিয়া প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে তা ক্ষমার অযোগ্য। অথচ এই ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেমকে বদলির আদেশ দেওয়া ছাড়া এ ব্যাপারে দৃশ্যত আর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের খবর আমাদের জানা নেই। ঘটনার মূল হোতা রাখি চক্রবর্তী বহাল তবিয়তে রয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব ও একজন যুগ্মসচিবের প্রশ্রয়ের কারণে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে লোকমুখে শোনা যাচ্ছে।
এমন অবস্থায় বাধ্য হয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর শরনাপন্ন হতে হয়েছে। বর্তমান সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে শিক্ষা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌছে দেওয়া, শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজেশন, মিড-ডে মিল চালু, নিয়মিত উপবৃত্তি প্রদানের মতো উদ্যোগের ফলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তার ফলে সরকারের এই সাফল্যের ওপর কলঙ্কের দাগ লাগতে পারে না।
অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ জুন ‘ রাজশাহীতে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তির ফল জালিয়াতি’ শিরোনামে সংবাদপত্রে  একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর গত জুলাই মাসে রাজশাহীতে এসে  বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সাইফুল ইসলাম তদন্ত করেন। তিনি গত ১৭ জুলাই মহাপরিচালকের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি তিনজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নামে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। কিন্তু সংশোধিত ফলাফল প্রকাশের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এ জন্য রাজশাহীতে অভিভাবকেরা সুশিক্ষা আন্দোলন মঞ্চের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেছেন। গত ১৯ নভেম্বর একই দাবিতে তারা রাজশাহীতে মানববন্ধন করেন এবং ২৯ নভেম্বর রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কার্যালয়ের সামনে প্রতীকি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

উপরে