রাজশাহীতে লোকসান মাথায় নিয়ে আলু ক্ষেতে চাষিরা

রাজশাহীতে লোকসান মাথায় নিয়ে আলু ক্ষেতে চাষিরা

প্রকাশিত: 26-11-2019, সময়: 16:32 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেষ সময়ে কোল্ড স্টোরেজে রক্ষিত আলুতে লাভের মুখ দেখেছে চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তবে এবারে পুরো মৌসুমজুড়েই লোকসানের পাল্লাই ভারী ছিল। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা ব্যবসায়ীরাই লাভ করেছেন। আবারো আশায় চলতি মৌসুমে লোকসান পুষিয়ে নিতে নব-উদ্যোমে আলু আবাদ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। চাষি পরিবারে এখন চলছে আলু লাগানোর মহা ব্যস্ততা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, এবারে জেলায় আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর। গতবছর আবাদ হয়েছিল ৩৮ হাজার ৯৭১ হেক্টর।

রাজশাহীর আলু চাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত মৌসুমের শুরুতে আলুর ভাল দাম থাকলেও শেষে এসে দাম না পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীদেরকে লোকসান দিতে হচ্ছে। তবে হিমাগারে মজুত রাখা আলুতে পুরো মৌসুমেই আলুতে চাষিদের লোকসান গুনতে হয়েছে। কিন্তু যক্ষের ধন হিসেবে যারা হিমাগারে আলু রেখেছিলেন তারাই লাভের মুখ দেখেছেন। এ ক্ষেত্রে হিমাগার কর্তৃপক্ষের লাভই বেশী হয়েছে।

গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার চাষিরা আলু আবাদ করতে মাঠে নেমে পড়েছেন। অনুকল আবহাওয়া বিরাজ করায় চাষিরা বলছেন গত ৩/৪ বছর যাবত আলুর আবাদ ও উৎপাদন ভালো হচ্ছে। গত বছর তারা উঠতি মৌসুমে আলুর দামও পেয়েছেন ভালো। উঠতি মৌসুমে ৬শ’-৭শ’ টাকা বস্তা (৫৫ কেজি) বিক্রি হলেও হিমাগারে রক্ষিত আলুর দাম কমে যায়। এতে ৯৫ শতাংশ চাষি ও ব্যবসায়ীদেরকে লোকসান গুনতে হয়। অনেকে আশঙ্কা করছেন লোকসানের কারণে এবার আলু আবাদ কমে যেতে পারে। তবে লোকসান পুষিয়ে নিতে গত বছরের মতই লক্ষ্যমাত্রার বেশি জমিতে এবার আলু আবাদ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহীর জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে আলুচাষ শুরু হয়েছে। একদিকে আমনধান কাটা-মাড়াই অন্যদিকে আলুচাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি পরিবার। বিশেষ করে জেলার পবা, মোহনপুর, বাগমারা, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় চাষি পরিবারে এখন দম ফেলার সময় নেই। যেদিকে চোখ যায় শুধু দেখা যাচ্ছে আলুর চাষবাস। কোন জমিতে রোপন করা হচ্ছে। আবার কোন কোন জমিতে অটো মেশিন দিয়ে চাষ করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে রোপন এখনো শুরু হয়নি। সফল চাষি কাম ব্যবসায়ী মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি গ্রামের নুরুল ইসলাম ও নুড়িয়াক্ষেত্র গ্রামের মোবারক হোসেন বলেন, সপ্তাহখানেক পর থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আলু চাষ শুরু হয়ে যাবে।

বীজের ওপর নির্ভর করে আলুর উৎপাদন। প্রতিবছরই টিস্যুকালচার বীজের আড়ালে ফাইদা লুটে ব্যবসায়ীরা। আবার বিগত দিনে দেখা গেছে, ভাল কোম্পানীর বীজ নিয়েই চাষিদের সর্বশান্ত হতে হয়েছে। বাজারে চাহিদা রয়েছে বিএডিসি বীজের। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মাত্র ৫ শতাংশ বীজও সরবরাহ করতে পারে না এই সরকারি প্রতিষ্ঠান।

এক্ষেত্রে বাজার দখলে রেখেছে ব্র্যাকের আলুবীজ। এর সাথেই আছে হীরা, কৃষাণ ও ইস্পাহানি আলুবীজ। ব্র্যাকের ‘এ’ গ্রেডের ৪০ কেজি বীজ আলু দাম ১৫২০ টাকা, ‘বি’ গ্রেডের দাম ১৩২০ টাকা ও ৫০ কেজি ওজনের বাক্স বীজের দাম ৪ হাজার টাকা। হীরা, কৃষাণ ও ইস্পাহানির ‘এ’ গ্রেডের প্রতি ৪০ কেজি বীজের দাম ১৪০০ টাকা ও ‘বি’ গ্রেডের দাম ১২০০ টাকা।

রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত আলু চাষি পবার বড়গাছির রহিমুদ্দিন সরকার বলেন, গতবছর তিনি ১০ ও তার ৩ ছেলে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছিলেন। তিনি আগেই আলু বিক্রি করায় লোকসান হয়েছে। কিন্তু তার ছেলেরা কিছু আলু কোল্ডস্টোরেজে রেখে দেয়ায় শেষে লাভ হয়েছে। এবার আবারো তিনি ১০ বিঘায় আলু লাগিয়েছেন এবং তার ছেলেরাও আলু লাগাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, রাজশাহীতে আলুর কোল্ড স্টোরেজগুলোর পাশাপাশি পেঁয়াজ, রসুন, আদা রাখার হিমাগার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

পবার কৃষক আজাহার আলী জানায়, তিনি ছয় বিঘা জমিতে আলু চাষ করছেন। সেই লক্ষে বীজ বপন করা সম্পন্ন হয়েছে। এক বিঘা জমিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানা তিনি।
কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আলু নিতান্তই শীতপ্রধান অঞ্চলের ফসল। নাতিশীতষ্ণ অঞ্চলেও আলু ভালো জন্মে।

তবে অ-নিরক্ষীয় অঞ্চলের শীতকালীন মৌসুমে যেমন আমাদের দেশে আলুর চাষ করা চলে। ১৬-২১ ডিগ্রি তাপমাত্রা আলুর জন্য আদর্শ স্থানীয়। তবে গাছ বৃদ্ধির প্রথম দিকে অধিক তাপ ও শেষ দিকে অর্থাৎ কন্দ ধরা কালীন সময়ে কম তাপ থাকা বাঞ্ছনীয়। অল্প পরিমাণ বরফ পড়াও আলু সহ্য করতে পারে, তবে অধিক শৈত্যে কন্দের বৃদ্ধি থেমে যায় ও কোষের গঠন নষ্ট হয়ে যায়।

Leave a comment

উপরে