শেষ বৃষ্টির স্বস্তিতে বরেন্দ্রর কৃষকেরা

শেষ বৃষ্টির স্বস্তিতে বরেন্দ্রর কৃষকেরা

প্রকাশিত: 28-10-2019, সময়: 01:27 |
খবর > কৃষি
Share This

আসাদুজ্জামান মিঠু : রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চল জুড়ে চলছে আমনের ভরা মৌসুম। আধা-পাকা ধানে ভরপুর হয়ে উঠেছে পুরো মাঠ। কার্তিক মাসের দুই সপ্তহ পেরিয়েছে। আর কয়দিন পরে অগ্রাহণ মাস পড়বে। অগ্রাহণ মাস পড়লেই শুরু হবে বরেন্দ্র অঞ্চলে জুড়ে আমন কাটা-মাড়ার মহা উৎসব।

এদিকে আমনের শেষ সময়ে এসে বৃষ্টি হওয়াতে সামান্য কিছু ক্ষেতে ধান মাটিতে হেলে পড়েছে। তবে বেশির ভাগ মাঠের ধান ভাল রয়েছে। এতে করে কৃষকেরা বৃষ্টি পেয়ে বেশ খুশি। তাতে ধানের ফলন বাড়বে ও রবি শস্যতে সহায়কত হবে বলে মনে করছে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। সে সাথে পোকা আক্রমণ ও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা জানান,বরেন্দ্র অঞ্চলে পুরো মাঠে আমনের শীষ ফোটে সমান হয়ে গেছে। অনেক উচু-নিচু ক্ষেতে পানি অভাবে ধান চিটা হয়ে যাওয়ার সম্ভবনাও ছিল। এমন সময় দুই দিনের বৃষ্টিতে অনেকটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন কৃষকেরা। এছাড়াও বৃষ্টির পানি ফলন বাড়াতে অনেকটা সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তারা।

চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আমনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ২২৪ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলের,রাজশাহী,নঁওগা,নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আমন চাষাবাদ হয়েছে আরো ৩ লক্ষ্য ৫০ হাজার হেক্টরের উপরে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা চাদন্দালায় গ্রামের কৃষক তসিকুল ইসলাম জানান, চলতি আমন মৌসুমে ১২ বিঘা জমিতে একান্ন জাতের ধান চাষাবাদ করেছেন। ক্ষেতে ধান আধা-পাকা রয়েছে। শেষ সময়ে একটি বৃষ্টির দরকার ছিল। গতদুই দিনের বৃষ্টিতে তার অনেক উপকার হয়েছে। ফলন বাড়বে বলে আশা তার।

তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের কৃষক বুলবুল বলেন, চলতি মৌসুমে ১৫ বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করেছেন তিনি। ক্ষেতের ধান পাক ধরা শুরু হয়েছে। এমন সময় বৃষ্টিতে তার ক্ষেতের ফলন বাড়বে বলে আশা তার।

এদিকে দুই দিনের টাকা বৃষ্টিতে বরেন্দ্র অঞ্চলের উচু-অঞ্চল গুলোর আমনে কোন ধরনের ক্ষতি না হলেও বৃষ্টির পানিতে অনেক নিম্ম অঞ্চল এলাকার ধান পানিতে তলিয়ে গেছে ও বাতাসে মাটিতে শুয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাতে সামান্য ক্ষেতের ফলন ক্ষতি হতে পারে বলে কৃষকেরা মনে করছেন।

রাজশাহীর তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমসের আলী জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধানের মাথা ভালই আছে। শেষ সময়ে বৃষ্টির দরকার ছিল এ অঞ্চলে॥ এ বৃষ্টি হওয়াই ফলন ও রবি শস্যতে সহায়ক হবে।

তিনি আরো জানান, দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধানের বেশি ক্ষতি হয়নি। তবে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া হলে বেশি ক্ষতি হতো বলে জানান তিনি।

Leave a comment

উপরে