রাজশাহীতে সবজির দামে খুশি চাষিরা

রাজশাহীতে সবজির দামে খুশি চাষিরা

প্রকাশিত: 21-10-2019, সময়: 15:29 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান বাজারে সবজির দামে খুশি হয়েছেন চাষিরা। বৃষ্টিতে ক্ষেতের সবজি নষ্ট হলেও লাভের মুখ দেখছেন তারা। টানা বৃষ্টিতে সবজি নষ্টের অজুহাতে বেড়ে গেছে দাম। পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত সবজির আমদানি হচ্ছে। তারপরও অজ্ঞাত কারণে সবজির দাম না কমছে না। আবার পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ব্যাপক পার্থক্য থাকায় বেশী দামে সবজি কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। রোববার পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমেছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। তবে সবজির দাম কমায় ক্ষোভ দেখিয়েছেন চাষিরা।

এদিকে সফল সবজি চাষি মৌগাছি গ্রামের প্রভাষক তোজাম্মেল শেখ বলেন, চাষির হাসি-কান্না লাভ লোকসান নির্ভর করে জলবায়ু, উৎপাদন ও দামের ওপর। আবার একই মৌসুমে সময় সাপেক্ষে ফসলের দামের ক্ষেত্রে কারো পৌসমাস কারো সর্বনাশ। দেশে এখনো সবচেয়ে বৃহৎ জীবিকার অংশিদার চাষি ও কৃষক সমাজ। যাদের উৎপাদিত পন্যের দাম কম বা বেশীতে কারো মাথাব্যাথা নাই। তবুও মাটির টানে জীবিকার তাগিদে থেমে নেই চাষাবাদ। কয়েক বছর থেকে আগাম সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেকে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, এবার আগাম শীতের সবজি চাষ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে। আর রবি মৌসুমে সবজি চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার হেক্টর। কৃষি বিভাগের মতে প্রতিবছর রাজশাহী অঞ্চলে সবজি চাষের আওতা বাড়ছে। জেলার পবা, মোহনপুর, বাগমারা ও দুর্গাপুর উপজেলার মাঠে মাঠে এখন কৃষকরা ব্যস্ত সবজি চাষে। আবার বাঘা উপজেলার চর এলাকায় বাধাকপি ও ফুলকপির চাষ করছে চাষিরা। শীতের সবজি বাধাকপি ও ফুলকপি চাষের ধুম পড়েছে। সবজি চাষিরা অন্যান্য সবজির চেয়ে বাধাকপি ও ফুলকপি চাষাবাদে বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। বর্তমানে তারা এ দুই সবজি ক্ষেতের নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত। এরপরও বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় দাম বেড়েছে সবজির বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে পটল, করলা, লাউ, কচু, পুুঁইশাক, কাকরল, লাল শাক, সবুজ শাক, কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপিসহ অন্যান্য সবজির দাম গত প্রায় দেড় মাস ধরে একই হয়েছে। তবে পাইকারি বাজারে পেঁপে, বেগুন ও মুলার দাম কমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

রোববার সরোজমিন জেলার সবজির বড় পাইকারি হাট মোহনপুর উপজেলার বিদিরপুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা দেশের অন্যান্য মোকামে সরবরাহের জন্য বিভিন্ন সবজির প্যাকেজিংসহ ট্রাকে উঠানোর কাজ করছে। পাইকারি ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন পটল, লাউ, ফুলকপি, বরবটির দাম আগের মত থাকলেও কমেছে বেগুন, পেঁপে ও মুলার দাম। তিনি জানান এখনো খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। দু’এক দিনের মধ্যেই সবজির দাম কমে যাবে। তবে ক্ষোভের সাথে সবজি চাষি বেড়াবাড়ি গ্রামের আলী হোসেন জানান, দাম বাড়তি হলেই দাম কমানোর জন্য সকল পক্ষ লেগে যায়। আর দাম কমলে কারো খবর থাকে না। দুই বিঘা জমিতে মুলা চাষ করেছি। বৃষ্টিতে এক বিঘা জমির মুলা নষ্ট হয়েছে। এক বিঘা জমিতে মুলা থাকলেও ভাল হয়নি। এ অবস্থায় দাম হলে লোকসান হবে। তিনি জানান, বর্তমানে যে কোন সবজির দাম পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি ২০ টাকার কম হলে কৃষকের লোকসান হবে।

রোববার মুলা প্রতিমণ (৪০ কেজি) পাইকারি বাজারে বিক্রি হয় সাড়ে চারশো’ থেকে ছয়শো’ টাকা, বেগুন বিক্রি হয় প্রতিমণ সাতশো’ টাকা, পটল বিক্রি হয় প্রতিমণ নয়শো থেকে হাজার টাকা, ফুলকপি ১১শো’ থেকে ১২শো’ টাকায় এবং পেঁপে বিক্রি হয় তিনশো’ টাকা।

এদিকে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের নিয়মিত মনিটরিং করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় ইচ্ছামত দাম বাড়াতে পারবে না। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

গতকাল নগরীর সাহেববাজারে সোহাগ নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘আমরা দিনমজুর করে যে টাকা পাই তাতে ভালোভাবে বাজার করা যায়না। একটা কিনলে আরেকটা কিনতে পারি না। সবজির দাম দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক রয়েছে। এটা স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ দাবি করছি’। শুধু সে নয় বাজার করতে আসা সব ক্রেতাই সবজির দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, টানা বৃষ্টিতে সবজি গাছ মরে গিয়ে আমদানি কমে যাওয়ার পর থেকেই দাম বেড়ে যায়। পাইকারি বাজারে দাম বেশি তাই খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। আমদানি বেশি হলে দাম কমে যাবে। বাজারে সবজির স্বল্পতা থাকলে দাম কমবে না। নিজের ইচ্ছাতেই দাম বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই।

Leave a comment

উপরে