তানোরে আমন ধানে দলে দলে ইঁদুরের হানা

তানোরে আমন ধানে দলে দলে ইঁদুরের হানা

প্রকাশিত: ০৮-১০-২০১৯, সময়: ১৬:২৯ |
Share This

সাইদ সাজু, তানোর : চলছে আশ্বিন মাস। সবুজে সবুজে ভরে ওঠেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলার আমনের ক্ষেত। মাঠজুড়ে এখন সবুজ স্বপ্নের ছড়াছড়ি। এমন স্বপ্নের মাঝে শুরু হয়েছে ইদুরের হানা। কাঁচা থোর ধান কেটে সাবাড় করে ফেলছে ইঁদুরের দল। এই ইঁদুরের আক্রমণে ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে কৃষকরা।

কৃষকরা বলছেন, রোবো ধানের দাম না পেয়ে অনেক লোকসানের মধ্যে পড়েছিলাম। সেই লোকসান মাথায় নিয়ে আমন চাষাবাদে নেমেছি। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টির অভাবে আমনের কিছুটা ক্ষতি হলেও শেষ সময়ে এসে বৃষ্টি ও কৃষকদের চেষ্টায় কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠেছেন কৃষকরা। কিন্তু কাঁচা থোড় ধান ইঁদুর কেটে দেয়ায় নতুন করে চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। ইঁদুরের কবল থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন কৃষক। কৃষকরা খেতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিষের টোপ, আতপ চালের টোপ কিংবা ফাঁদ পেতেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

কৃষক ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবার ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। তবে শুধু বিষের টোপ নয়, কলাগাছ, লাঠি কিংবা বাঁশের কঞ্চিতে পলিথিন বেঁধে দিলে এবং রাতে ফসলের খেতে টায়ার পোড়ানোর পদ্ধতি ব্যবহার করলে ইঁদুর কিছুটা ভয়ে খেত ছেড়ে চলে যাবে। কৃষকদের দেয়া হচ্ছে পরামর্শ। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের জমির মাঠে দেখা যাচ্ছেনা।

তানোর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে তানোর উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৭ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে পোকা দমনের পদ্ধতিতে পার্চিং-লগ, লাইন এবং ধঞ্চে গাছ লাগানো হয়েছে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে।

তানোর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আলতাব হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষাবাদ করেছেন তিনি। আবহাওয়া ভাল থাকায় তার ক্ষেত অন্য বছরের চেয়ে ভালোই হয়েছিল। কিন্তু তার ফসলের ক্ষেতের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতকের মতো থোড় ধান কেটে সাবাড় করে ফেলেছে ইঁদুরের দল। তিনি বলেন কৃষি অফিসে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পাওয়া যাচ্ছেনা।

উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের কৃষক আজিজ বলেন, তার চার বিঘার খেতের কাঁচা ধান কেটে ফেলেছে ইঁদুর। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী রাতে খেতের পাশে পুরনো টায়ার পোড়ানো, পটকা ফুটানো, বিষের টোপ ব্যবহার করেও ইঁদুর দমন করা যাচ্ছে না। ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

কৃষকরা বলছেন, খেতে পোকা আক্রমণ করলে কীটনাশক প্রয়োগ করে পোকা দমন করা যাচ্ছে। কিন্তু ইঁদুর দমন করা যাচ্ছে না। তাই সরকারকে ইঁদুর দমনে নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করতে হবে। যেন সব কৃষক ইঁদুর থেকে রক্ষা পায়। না হলে খেতের অর্ধেক ফসল ইঁদুরের পেটে চলে যাবে। লোকসানে পড়বে কৃষকরা।

তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার শামিমুল ইসলাম বলেন, এই সর্বনাশা ইঁদুর গাছে এমনকি অনেক সময় পানির ওপর খড়কুটো দিয়ে বাসা বেঁধে বসবাস করে। ইঁদুর দাঁতের বৃদ্ধি রোধ করার জন্য সামনে যা পায় কেটে তছনছ করে দেয়। আমন ক্ষেতে বাতাসে দোলে এমন পাতা যুক্ত ছোট কলাগাছ রোপন করে খুঁটির সাথে পাতলা পলিথিন বেঁধে দিয়ে ইঁদুর তাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে, কৃষকরা বলছেন, শুধুমাত্র পরামর্শ দিয়েই দায়সারছেন কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে মাঠের জমিতে গিয়ে বাস্তবতার দিকে নজর দিচ্ছেন না। এমন প্রশ্নের জবাবে কোন সদ উত্তের দিতে পারেননি কৃষি কর্মকর্তা।

এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন বানু বলেন, কৃষি অফিসারের সাথে কথা বলেন। আমি খোজ নিয়ে এবং কথা বলবো পরে।

Leave a comment

উপরে