৯৯ শতক জমিতে ৯৩ প্রকার ধান চাষ

৯৯ শতক জমিতে ৯৩ প্রকার ধান চাষ

প্রকাশিত: ২৯-০৯-২০১৯, সময়: ১৪:০০ |
খবর > কৃষি
Share This

আসাদুজ্জামান মিঠু : যুবরাজ,সাদাকথা, রাধুনি পাগল, পাঙ্গাস, ঝিঙ্গাশাইল, কালজিরা, সুবাশ, বাঁশমতি, চিনি শঙ্কর, বাদশাভোগ, এক ধানে দুই চাল, বিন্নি। এসব ধানের নাম এখন আর অনেকের মনে নেই। নতুন প্রজন্ম তো দুরের কথা প্রবীনদের অনেকের মনের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে নামগুলো।

তবে এসব ধান অনেক যত্নে আগলে রেখেছেন কৃষক ইউসুফ মোল্লা। গত বছর বীজের পরিধি বাড়াতে ৭৭ প্রকার/জাতের ধান চাষাবাদ করেছিলেন। চলতি আমন মৌসুমে সে গতি বেড়ে ৯৯ শতক জমিতে এবার তিনি চাষাবাদ করেছেন ৯৩ জাতের/ রকমের ধান চাষ।

রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার দুবইল গ্রামের বাসিন্দা তিনি। এতো রকম জাতের ধান একসঙ্গে চাষাবাদ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কৃষক পর্যায়ে ইউসুফ মোল্লাই প্রথম স্থানে আছেন বলে দাবি করেছেন ইউসুফ মোল্লাসহ কৃষি কর্মকর্তারা।

কৃষক ইউসুফ মোল্লার ব্যাক্তি উদ্যোগে এসব বিলুপ্ত ধানের বীজ দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষরণ করে রাখছেন। ২০১২ সাল থেকে রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুরসহ সারাদেশে প্রায় ৩০০ কৃষককে তিনি এসব বীজ শর্তসাপেক্ষে সবরাহ করেছেন। এছাড়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকায় ১০০ এর বেশি ও রাজশাহী গবেষণা গারে প্রায় ৬৫ জাতের ধান বীজ সরবারহ করেছেন।

ইউসুফ মোল্লা আদর্শ কৃষক। আদর্শ কৃষক হিসেবে অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। তার প্রচেষ্টায় বিলুপ্তি প্রায় ২০০ বেশি ধানের বীজ সংরক্ষেণে আছে।

শুক্রবার সরেজমিন ইউসুফ মোল্লার ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় এক একর জমিতে ৯৩ প্রকার ধান চাষাবাদ করেছেন। এক শত বা দুই শতক করে একাক প্রকার ধান চাষ করা হয়েছে। প্রতি ক্ষেতে আলাদা আলাদা করে ধানের নাম দিয়ে সাইনবোর্ড দেয়া আছে ক্ষেতের মধ্যেই। সেখানেই কথা হয় কৃষক ইউসুফ মোল্লার সাথে।

ইউসুফ মোল্লা জানান, হারানো ধানের বীজের পরিধি বাড়াতে চলতি আমন মৌসুমে ৯৯ শতক জমি ৯৩ প্রকার ধান চাষাবাদ করেছেন। এসব ধানের বীজ সংগ্রহ করে কৃষকদের মধ্যে বিতারণ করা হবে। কৃষকেরা সে ধান চাষাবাদ করলে পুনোরাই বিলুপ্ত ধান গুলো নতুন জীবন ফিরে পাবে।

তিনি আরো জানান, পরিবেশ বান্ধব সুগন্ধি এসব ধান অল্পদিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরেই তিনি গত বিশ বছর ধরে বীজ সংগ্রহের কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত ২০০ বেশি বিভিন্ন জাতের ধান বীজ তিনি সংগ্রহ করেছেন। ২০১২ সাল থেকে ৫০টি করে জাতের ধান তিনি অল্প করে আবাদ করেন। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগ্রহী কৃষকদের মাঝে বিতারণ করছেন।

তিনি আরো জানান, তিনি যে সব কৃষকদের এবস হারানো ধানের বীজ সরবরহ করছেন তা শর্তসাপেক্ষে। তা হলো বীজের বদলে বীজ। একজন কৃষক তার কাছে ৫ কেজি বীজ নিলে ধান উৎপাদনের পরে সে আবার ৫ কেজি বীজ ফেরত দিবে।

কৃষক ইউসুফ মোল্লা জানান, তার সংগ্রহে থাকা ১০০ প্রজাতির বেশি বীজ গাজীপুর ধান গবেষণা কেন্দ্র ও রাজশাহী ধান গবেষণা কেন্দ্রে ৬৫ রকম বীজ দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে ৭২ ঝিনাইদহ ১২ প্রকার জাতের ধান সরবরহ করেছেন। তারা সেগুলোর বিস্তার করা নিয়ে গবেষণা করছে।

তিনি আরো জানান, তার এমন উদ্যোগে উৎসাহ জুগাচ্ছেন স্থানীয় কৃষি সম্প্রাসারণ ও বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) । আর সার্বিক সহযোগিতা করছেন বেসরকারী গবেষণা সংস্থা বারসিক।

তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমশের আলী বলেন, কৃষক ইউসুফ মোল্লার ২০ বছরের প্রচেষ্টায় বরেন্দ্র থেকে অনেক নামী দামি বিলুপ্তি ধানগুলো নতুন করে জীবন পাচ্ছেন। সে সাথে দেশের মধ্যে তানোর উপজেলার কৃষক হিসাবে ইউসুফ মোল্লা রাজশাহী তথা বরেন্দ্রঞ্চলের সুনাম ধরে রেখেছেন। তাছাড়াও বিলুপ্তি ধান সর্ম্পকে নতুন প্রজন্মরা জানতে পারছেন।

Leave a comment

উপরে