পুঠিয়ায় পাটের দাম ভাল থাকায় চাষিরা খুশি

পুঠিয়ায় পাটের দাম ভাল থাকায় চাষিরা খুশি

প্রকাশিত: ২২-০৮-২০১৯, সময়: ১২:০০ |
Share This

মোহাম্মদ আলী, পুঠিয়া : পাট চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছড়ানো ও শুকানো। দাম মোটামুটি ভাল থাকায় এবারে চাষিদের লাভের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় পুরদমে নতুন পাট পেতে শুরু করেছে চাষিরা।

পাট চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর ভাল দাম পাওয়ায় উপজেলায় বিভিন্ন অঞ্চলে পাটের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। এবং রাজশাহীতে বৃদ্ধি পেয়েছে পাটের আবাদ। কিন্তু পুঠিয়া উপজেলায় চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট পচানো নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বানেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। খালে-বিলে পানি না থাকায় কৃষকরা পাট কাটতে পারছেন না। ফলে পাট নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।

ভালো দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় পাটের আবাদ বেড়েছে প্রায় ১৬০ হেক্টর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন সোনালী আঁশের সু-দিন ফিরতে শুরু করেছে। অনুকুল আবহাওয়ায় ভাল ফলনের আশা করছেন চাষি ও কৃষিবিদরা। প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১৭শ’ টাকা থেকে দুই হাজার।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে উপজেলাতে লক্ষমাত্রার বেশী জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আর গতবারের চেয়ে ১৬০ হেক্টর বেশী জমিতে আবাদ হয়েছে। গতবার আবাদ হয়েছিল ৩ হাজার হেক্টর। এবারে হয়েছে ৩ হাজার ১৬০ হেক্টর। এবারে লক্ষমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫০ হেক্টর। এবারে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৬০ মেক্টিক টন।

শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও দাম ভাল থাকায় লাভ হয়েছে। তাদের হিসাব মতে পাটের আবাদ করতে বিঘায় সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পাট উৎপাদন হয়েছে বিঘায় ৮ থেকে ১২ মন। গতবার মৌসুমের শুরু থেকেই পাটের দাম ভাল ছিল। প্রতিমণ পাট (৪০ কেজি) বিক্রি হয় ১৭শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা। মৌসুমের শেষের দিকে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১৭শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়।

চাষিরা মনে করেন, মধ্যসত্বভোগী ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট না থাকলে পাটের দাম আরো বেশি হতো। চাষিরা পাটের নায্যমূল্য প্রাপ্তিতে উঠতি মৌসুমে দর নির্ধারনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রায় তিন বছর পরে গতবার দাম ভাল ছিল পাটের। পাট নিয়ে নানা চমক ও উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ নিলেও চাষি পর্যায়ে দাম না থাকায় পাটের আবাদ কমেছিল। গত মৌসুমে পাটের দাম অনেকটাই ভাল ছিল। প্রেক্ষিতে এবারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ বেশী হয়েছে।

জিনোম আবিষ্কার, পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে সরকারি প্রণোদনা এবং সর্বশেষ পাট থেকে পলিথিন আবিষ্কার হয়েছে। কিন্তু এসব সত্বেও শুধুমাত্র কাংখিত বাজার মূল্য না পাওয়ায় তুলনামূলকভাবে পাটচাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন চাষিরা। সোনালী আঁশের এ দেশে পাটচাষ আশানুরুপ নয় বলে দাবি করেছেন অভিজ্ঞজনেরা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। সরোজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাটকাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছড়ানো এবং শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও তার পরিবার। কোথাও কোথাও ক্ষেতে পাট গাছ কাটছে, কোথাও জাগ দেয়ার জন্য পাটের আঁটি সংরক্ষণ করছে। আবার কোথাও আঁশ ছড়াচ্ছে এবং গৃহবধূরা পাট শুকাচ্ছেন। দাম ভাল থাকায় নতুন স্বপ্ন বুনেছেন চাষিরা। অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি হবে এমন ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণে আশার আলো দেখছেন তারা।

পাট ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতবার থেকে পাটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বানেশ্বর হাটে নতুন পাট উঠতেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যক্তি উদ্যোগে জুটমিল গড়ে উঠায় চাষিরা পাটের দাম ভাল পাচ্ছেন। এবারো দাম ভাল পাবেন’। তিনি বলেন, ‘এ এলাকার পাটের মান ভালো করলে চাষিরা আরো বেশী দাম পাবে। আজকে প্রতিমণ পাট ক্রয় হবে ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়’।

কৃষি অফিসার মনজুরে মাওলা বলেন, এবারে পাট চাষের অনুকুল আবহাওয়া বিরাজ করায় আবাদ ভাল হয়েছে। উৎপাদনও ভাল হয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বাজারে পাটের দামও ভাল এতে কৃষক খুশি তাই আবারো পাটের সুদিন ফিরবে ও সোনালী আঁশের মর্যদা বাড়বে। লাভবান হবেন চাষিরা। আগামীতে আরো বেশী চাষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই র্কমর্কতা।

উপরে