রাজশাহী অঞ্চলের পাট চাষীদের মুখে সোনালী হাসি

রাজশাহী অঞ্চলের পাট চাষীদের মুখে সোনালী হাসি

প্রকাশিত: ২১-০৮-২০১৯, সময়: ২৩:৪৩ |
Share This

আসাদুজ্জামান মিঠু : চলতি বছর অনুকূল আবহাওয়া থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে দামও ভাল যাচ্ছে। সার ও ভালো বীজের সহজলভ্যতা ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনে দিনে পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকেরা।

রাজশাহী অঞ্চলে পাট কাটা শেষ হয়েছে। এখন জাগ দেয়া, আঁশ ছড়ানো ও শুকানো চলছে পুরোদমে। দাম মোটামুটি ভাল থাকায় এবারে চাষিদের লাভের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চলতি বছর রাজশাহীতে পাটের আবাদ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বিঘা। সোনালী আঁশের সু-দিন ফিরতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। প্রতিমণ পাট (৪০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে দুই হাজার।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, এবারে জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে লক্ষ্যমাত্রার বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আর গতবারের চেয়ে এক হাজার ২১ হেক্টর (সাত হাজার ৬০০ বিঘা) বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। গতবার আবাদ হয়েছিল ১২ হাজার ৮২৫ হেক্টর। এবারে হয়েছে ১৩ হাজার ৮৪৬ হেক্টর। এবারে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৫৭৫ হেক্টর। এবারে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার ৫৭৭ বেল (১ বেল সমান প্রায় ৫ মণ বা প্রায় ১৮৭ কেজি)।

পাট চাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারিভাবে খাদ্যশস্যে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক ঘোষণাসহ পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় কদর বেড়েছে পাটের। গত ২ বছর যাবত ভাল দাম পাওয়ায় রাজশাহী অঞ্চলে পাটের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। রাজশাহীতে বৃদ্ধি পেয়েছে পাটের আবাদ। এই জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে রাজশাহীতে বেসরকারি পর্যায়ে নির্মিত কয়েকটি জুটমিল।

বুধবার সরেজমিন তানোর উপজেলার হাদ্দো বিল ও পবা উপজেলার দুয়ারী এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে বারনই নদীতে নেমে প্রায় শত শত শ্রমিক পাট ছড়ানো ও শুকানোতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

সেখানে কথা হয় পাট চাষী দুয়ারী গ্রামের গোলাম মোস্তফার সঙ্গে। গোলাম মোস্তফা বলেন, গত বছর দুই বিঘা পাট চাষ করেছিলেন। বাম্পার ফলন বাজারে ভাল দাম পেয়েছিলেন। তাই চলতি বছর চাষের পরিধি বাড়ায় তিনি চার বিঘা পাট চাষ করেছেন। তার পাট ছড়ানো ও শুকানো শেষ হয়েছে। তাতে করে এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে সাড়ে ১২ মণ করে ফলন হয়েছে। বাজারে ভাল দাম থাকায় ভাল লাভ হবে আশার করছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, পাট বাজারে ওঠার পরে দাম কমে যায়। তখন শ্রমিকের টাকা দেয়ার জন্য পাট বিক্রি করেও দাম পাওয়া যায় না। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই চাষি।

একই গ্রামের কৃষক হাতেম আলী। তিনি বলেন, গত বছর অন্য কৃষকেরা পাট চাষ করে ভাল আয় করেছে। তাই তাদের দেখে তিনি চলতি বছর ১০ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। তার ১০ কাঠা জমিতে চাষসহ অন্য খরচ হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা। এবার ফলন হয়েছে সাড়ে ছয় মণ। বাজারে দুই হাজার টাকা প্রতিমণ পেলে সাড়ে ছয় মনে দাম পাবে ১৩ হাজার টাকা। এতে করে তার এবার ধানসহ অন্য ফসলের চেয়ে ভাল লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন,গত এক সপ্তহ আগে বাজারে দুই হাজার টাকা মণ পাট বিক্রি হয়েছে। গত দুই তিন দিন যাবত করে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০। কোন সিন্ডিকেট পাটের বাজারে ঢুকলে কৃষকেরা লোকসানে পড়বে বলে মনে করছেন তিনি।

পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকার ৫ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মজির্বু রহমান বলেন, গতবারের চেয়ে এবার লক্ষ্যমাত্রা ও ফলন দুটোই বেশি হয়েছে। এতেই হাসি ফুটেছে রাজশাহীর পাট চাষিদের মুখে। এক সময়ের সোনালি আঁশকে নিয়ে এ অঞ্চলের চাষীরা নতুন করে স্বপ্ন বাঁধছেন। তবে চাষীদের উৎপাদিত সোনালী আশ যেন সিন্ডিকেটের দখলে না যাই সেটা সবাই কে সজাগ থাকতে হবে। না হলে কৃষকেরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুল হক বলেন, পাট চাষের অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় এবার আবাদ ভালো হয়েছে। উৎপাদনও ভালো হবে বলে আশা করছি। এখন বাজারদর ঠিক থাকলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। আর দাম ভালো পেলে আবারও সোনালি আঁশের সুদিন ফিরবে। আগামীতে আরও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হবে।

উপরে