ঈদ আনন্দ ফিকে মরিচ চাষিদের

ঈদ আনন্দ ফিকে মরিচ চাষিদের

প্রকাশিত: ০২-০৮-২০১৯, সময়: ২২:০১ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাত্র সাতদিনের ব্যবধানে মরিচের কেজিতে ১শ’ টাকা নাই। আবারো লোকসানের মুখে মরিচ চাষিরা। প্রতিকেজি মরিচের দাম ১শ’ ৬০ পর্যন্ত উঠেছিল। শুক্রবার রাজশাহীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫০ টাকা। মরিচসহ প্রতিটি সবজির দামে ধ্বস নেমেছে। সবজির দাম না বাড়লে চাষি পরিবারে এবারে কোরবাণির ঈদ আনন্দে ভাটার আশংকা করছেন তারা। বিশেষ করে মরিচ চাষিদের আগামীর স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে।

গতবার দাম ভাল পাওয়া যায়নি। গতবারের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবারো ব্যাপক জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গত মৌসুমের অর্জনের চেয়ে বেশী জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এবারে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর।

মরিচ চাষি মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ি গ্রামের ইব্রাহিম সরকার, মৌগাছি গ্রামের মাহবুব আলম তোতা, পবা উপজেলার দাদপুর গ্রামের সঞ্জিব কুমারসহ সবজি চাষিরা জানান, ‘সবজির দাম বাড়লে বড় বড় করে লেখা হয় বাজারে আগুন লেগেছে। তিন দিন আগেই ইন্টারনেটে মরিচের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে লেখালেখির বহর দীর্ঘ হয়েছে। কিন্তু আজ সে মরিচের দাম প্রতি কেজিতে ১২০ টাকা নাই হয়েছে। উনারা আজ আর লিখবেন না। দাম কমানোর জন্য বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা টিভিতে চিৎকার শুরু করেন। আর কমলে এসবের বালাই থাকে না। কোন কোন ফসলে লোকসান হচ্ছে সেদিকে কেহ তাকায়ে দেখে না’।

তারা আরো বলেন, ‘এ দেশে কৃষি ফসলের দাম যেন জুয়া ও লটারির গেম। কপাল ভাল হলে দাম পেল না হলে পেল না। বর্তমানে আবাদ করে কোন চাষি লাভবান হচ্ছে না। আশায় বুক বাঁধছে। কিন্তু নিরাশায় তরীই বারবার আঘাৎ হানছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় চাষিরা আবাদ করাই ছেড়ে দিবে। এখনই শ্রমিক খরচ বেশী হওয়ায় চাষিরা বিপাকে পড়েছে। কোন কৃষি ফসলের আশানুরুপ দাম পাচ্ছে না। শুনেছি হিলি বন্দর দিয়ে দেশের বাজারে ভারতীয় মরিচ ঢুকছে। এতে আরো দাম কমে যাবে’।

শুক্রবার সিটি বাইপাস খড়খড়ি, বুধবার মোহনপুরের বিদিরপুর পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি মরিচ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ দুই দিন আগেই প্রতিকেজি মরিচের পাইকারি দাম ছিল ১৪০-১৬০ টাকা। সাত দিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি মরিচে দাম কমেছে ১০০-১২০ টাকা। বিদিরপুর বাজারে ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইন্ডিয়ান মরিচ বাজারে আসায় মরিচের দাম কমেছে। এছাড়াও উৎপাদনও বেশী হচ্ছে’।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, চাষিরা উৎপাদিত ফসলের দাম পেলে যেমন ভাল লাগে দাম না পেলে খারাপ লাগে। চাষিরা কাংখিত দাম না পেলে আবাদ কমিয়ে দেয়। তখন দাম এমনিতেই বেড়ে যায়। কৃষি বিভাগ দেখে থাকে আবাদের দিকটা। দামের বিষয়টি দেখভাল করে থাকে বাজার মনিটরিং কর্মকর্তারা।

উপরে