রাজশাহীতে পটলের ভাল দাম, খুশি কৃষক

রাজশাহীতে পটলের ভাল দাম, খুশি কৃষক

প্রকাশিত: ১৬-০৭-২০১৯, সময়: ১৮:৩৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌসুমের অনেকটা প্রথম পর্যায়ে পটলের বাড়তি দামে খুশি রাজশাহীর কৃষকরা। দুই সপ্তাহেই পটলের দাম বেড়েছে সাতগুণ। এ কারণে পটলের খেতের যত্নও বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাজশাহী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার ৯শ’ ৫০ হেক্টর (৭ হাজার ৬৮ বিঘা) জমিতে পটলের চাষ হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় প্রায় ১৫০ বিঘা বেশী। গতবার প্রায় ৮৮০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল।

জেলার প্রায় সবকটি উপজেলায় পটলের চাষ হয়েছে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পবায় ৩০০ হেক্টর, মোহনপুরে ২২০ হেক্টর এবং বাগমারায় ১২০ হেক্টর জমিতে পটলের চাষ হয়েছে।

জানা গেছে, পটলের দাম ১৫ দিন আগে প্রতিমণ (৪০ কেজি) পটলের দাম ১০০-১৫০ টাকা বিক্রি হয়। এ মাসের প্রথম থেকে পটলের দাম বাড়তে থাকে। বর্তমানে পবার নওহাটা, মোহনপুরের কেশরহাট, বিদিরপুরহাট, মৌগাছি এবং বাগমারার ভবানীগঞ্জ ও মোহনগঞ্জ হাটে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিমণ পটল বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকায়। এসব বাজারে প্রতি হাটবারে প্রায় ৫-৭শ’ মণ পর্যন্ত পটল ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় পাঠানো হয়ে থাকে।

পটলের দাম না পাওয়ায় দুঃচিন্তায় ছিলেন চাষিরা। অনেকে পটলের আবাদ ভেঙ্গে অন্য আবাদ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন। এমন সময়ে পটলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। কয়েকদিন থেকে পটলের যত্নে মেতেছেন তারা। পটলের মাচা শক্ত করা, পানি নিস্কাশনের নালাসহ কীটনাশক প্রয়োগ, আগাছা পরিস্কার এবং সার প্রয়োগ করছেন। এমনকি মাচার নীচের মাটিতে গজানো ঘাসও পরিস্কার করছেন চাষিরা।

রোববার মোহনপুর উপজেলার বিদিরপুর হাটে জমি থেকে নিয়ে আসা প্রতিমণ পটল পাইকারি বাজারে ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা দামে।

পবা উপজেলার তেঘর গ্রামের পটল চাষি জিএম সরকার সোয়া বিঘা ও মোহনপুর উপজেলার নুড়িয়াক্ষেত্র গ্রামের মোবারক আলী ১ বিঘা জমিতে পটলের আবাদ করেছেন। তারা জানান, আগাম চাষে এবারে চাষিরা পটলের দাম পাননি। কয়েকদিন থেকে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। পটলে তেমন রোগ-বালাই নেই। পটলের আবাদও ভালো হয়েছে। ফলে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। তারা আরো বলেন, মাচার খুঁটি ও সুতা নতুনভাবে লাগাচ্ছেন তারা। অগ্রহায়ন মাস পর্যন্ত পটল পাওয়া যাবে। মাচায় থাকা পটলের গুণগত মান ভাল থাকায় চাষিরা দামও একটু বেশি পাচ্ছেন। ভাল দাম এবং বৃষ্টির পানিতে পচনের হাত থেকে পটল রক্ষা করতে চাষিরা কয়েক বছর থেকে মাচায় পটল চাষ করছেন। বর্তমানে চর এলাকা ছাড়া কেহই মাটিতে পটল চাষ করছেন না।

বিদিরপুর বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, এখন পটলের মওসুম। কয়েকজন মিলে শেয়ারে ব্যবসা করেন তারা। প্রতি হাটে প্রায় ২০০-২৫০ মন পটল কিনছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরাসরি ট্রাকে করে পাঠানো হয়। তবে তিনি ঢাকায় ব্যবসা করেন। প্রতি কেজি পটলে ২-৩ টাকা লাভ থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাজশাহীর উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের জমি পটল চাষের জন্য উপযোগী। এবার পটলের ফলন ভালো হয়েছে। দামও বাড়তে শুর করেছে। দাম ভাল পেলে আগামীতে এ অঞ্চলের কৃষক পটল চাষে আরেও উৎসাহী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপরে