কামারগাঁ গুদামে ধান ক্রয় বন্ধ

কামারগাঁ গুদামে ধান ক্রয় বন্ধ

প্রকাশিত: ১৫-০৭-২০১৯, সময়: ০২:৩৪ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর : তানোরে মাইকিং করে তালিকায় নাম বাদ পড়া কৃষকদের তোপের মুখে কামারগাঁ গুদামে ধান সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। এঘটনায় এলাকা প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ২য় দফায় কামরাগাঁ গুদামের জন্য বরাদ্দ ২শ’৩২ মেট্রিক টন ধান কলমা ইউনিয়ন এলাকার কৃষকের জন্য ১শ’১৬টন ও কামারগাঁ ইউনিয়ন কৃষকের জন্য ১শ’১৬টন ধান ভাগ করে দেয়া হয়। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মুল্যে ধান ক্রয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে এলাকায় মাইকিং হয়। গত মঙ্গলবার তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামারগাঁ খাদ্যগুদামের সামনে কামারগাঁ ইউনিয়ন এলাকার কৃষকদের মধ্যে থেকে ৩শ’৫০ জন কৃষকের কৃষি কার্ড সংগ্রহ চলে আসেন। পরে আরো প্রায় ১শ’৫০ কৃষক তাদের কৃষি কার্ড নিয়ে আসলেও কার্ড জমা দিতে না পেরে ফিরে যান। তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরাগাঁ ইউনিয়ন এলাকার ৩শ’৫০জন কার্ডধারী কৃষকের মাঝে ১শ’১৬ মেট্রিক টন ধান সরবরাহ করতে সমানভাগে ভাগ করে স্লিপ দিয়ে বুধবার থেকে কৃষকদের ধান সরবরাহ করতে বলেন।

স্লিপ পাওয়া কৃষকরা কামারগাঁ খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করতে আসলে তালিকায় বাদ পড়া কৃষকরা গুদামে ধান সংগ্রহে বাধা দেন। বাদ পড়া কৃষকদের বাধার মুখে কামারগাঁ খাদ্যগুদামে বুধবার থেকে ধান ক্রয় বন্ধ করে রয়েছে। এঘটনায় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তানোর উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে তানোর উপজেলার ২টি খাদ্যগুদামের জন্য প্রথম দফায় মোট ৩শ’৬৯ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়। দ্বিতীয় দফায় আরো ২টি খাদ্য গুদামের জন্য ৬শ’১৫ মেট্রিক টন ধান কেনার বরাদ্দ পাওয়া যায়। সে অনুযায়ী কামারগাঁ গুদামে ২শ’৩২মেট্রিক টন ধান কেনার বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তালিকায় বাদ পড়া কৃষকদের বাধার মুখে গতকাল রোববার পর্য়ন্ত সেই ধান কেনা যায়নি।

এব্যাপারে কামরাগাঁ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার কার্ড সংগ্রহ চলাকালীন সময়ে প্রায় ১শ’৫০জন কৃষক তাদের কার্ড জমা দিতে পারেননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্ড সংগ্রহ করে চলে যাওয়ার পর ওই কৃষকরা আমার কাছে কার্ড জমা দিতে এসেছিলেন আমি ওই কৃষকদের নির্বাহী অফিসারের কাছে কার্ড জমা দিতে বলি। কিন্তু তারা নির্বাহী অফিসারকে তাদের কার্ড জমা না দিয়ে ধান সরবরাহ করতে আসা কৃষকদের বাধা দিচ্ছেন। ফলে ধান ক্রয় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন বানু বলেন, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য এলাকায় মাইকিং করে ৩শ’৫০ জন কৃষকের কৃষি কার্ড নিয়ে প্রতি কার্ডে ৮মন করে ধান সরবরাহ করতে কৃষকদের স্লিপ দেয়া হয়েছে। ধান ক্রয় বন্ধ আছে কিনা তা তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, আমার কাজ প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য তালিকা করা, আমি সেটা করেছি ধান ক্রয় করা না করার দায়ভার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার, তিনি আরো বলেন, যদি সময়মত খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ধান সংগ্রহ করতে না পারেন তাহলে বরাদ্ধ ফেরৎ যাবে।

উপরে