উৎপাদন বাড়লেও কমেছে রপ্তানি

উৎপাদন বাড়লেও কমেছে রপ্তানি

প্রকাশিত: ১০-০৭-২০১৯, সময়: ১৪:১০ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : গত পাঁচ বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বরেন্দ্র ও দিয়াড় অঞ্চলে আমের উৎপাদন বাড়লেও বাড়েনি রপ্তানি। একই সাথে আমের উৎপাদন বাড়ার সাথে নাথে জমির পরিমাণ ও বেড়েছে। যার কারণে সমগ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ এখন ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হচ্ছে। সরকারি ভাবে উদপাদন পৌণে ৪ লাখ মেট্রিকটন ধরা হলেও বেসরকারিভাবে তা সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিকটন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বিষ মুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষে প্রায় ১০ কোটি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষে কৃষকরা ফ্রুট ব্যাগিং সহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ করার পরও আম রপ্তানি আশানুরূপ নয়।নিরাপদ আম উৎপাদনকারী কৃষকদের দাবি আম উৎপাদন বাড়লেও বরং গত পাঁচ বছরে আম রপ্তানি কমেছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত জাত ও মিষ্টি আমের চাষ হয়ে থাকে শিবগঞ্জে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ মেট্রিক টন রপ্তানী হয়েছে। সূত্র বলছে ২০১৫-১৬ বছরে সাত কৃষকের মাধ্যমে ১০৪ মেট্রিক টন ১৬-১৭ অর্থ বছরে পৌনে তিন মেট্রিক টন, ১৭-১৮ অর্থ বছরে ৩০ মেুট্রক টন, চলতি বছর সেকানে মাত্র ৫ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হয়েছে।

সূত্র বলছে শুধু শিবগঞ্জে এখন ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে হচ্ছে আম চাষ। কয়েক বছর আগেও আমের মাছি, পোকার আক্রমন থেকে আম রক্ষার জন্য ভালো মন্দ বিচার না করেই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করতো চাষীরা। এত করে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি আমের উৎপাদন ব্যয় বেড়েই চলছিল। সেই সাথে নিরাপদ আম হিসাবে সেগুলো বিবেচিত না হওয়ায় বিদেশে রপ্তানি অর্ডার পাওয়ার প্রধান বাধা ছিল পোকা আক্রান্ত আম। এ অবস্থায় মাছি পোকার আক্রমণ থেকে আম রক্ষায় ৫ বছর আগে নতুন প্রযুক্তি ফ্রুট ব্যাগং নিয়ে কাজ করেন চাঁপাই আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব (পূর্বের আম গবেষণাগার) কেন্দ্রের বিঞ্জানীরা। এই প্রযুক্তিতে আমের গায়ে কোন দাগ থাকবে না। এ ছাড়া সংরক্ষণে রোগ ওপোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে আম কে রক্ষা করে বিষমুক্ত আম উৎপাদন করা যায়। আর তখন থেকেই কৃষক বিদেশে আম রপ্তানির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। পোকার আক্রমণ থেকে আম কে রক্ষায় পাঁচ বছর থেকে চাঁপাইয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ব্যাগিং প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে বিষমুক্ত আম উৎপাদন হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ইংল্যান্ড ভুক্ত দেশগুলোয় আম রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়।এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ালমার্ট সহ বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্যাগিং করা ল্যাংড়া, খিরশাপাত,বারি-২,বারি-৩,ফজলি,আশ্বিণা জাতের দেড়শত মেট্রিক টন আম পাঠায় ইংল্যান্ডে। কিন্তু গত বছর নানান জটিলতার কারণে আম বিদেশে রপ্তানি হয়নি। অথচ রপ্তানির আশায় চাঁপাইয়ের চাষীরা নিরাপদ আম উৎপাদনের দিকে ঝুকে পড়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের ভাষ্য হচ্ছে রপ্তানির আশায় চাষীরা ১০ কোটির ও বেশি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। সে থেকে বিষমুক্ত আম আসবে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন। জেলার রাণীহাটি, চককীর্তি, কানসাট, ধাইনগর এলাকায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ফজলি ও আশ্বিণা আমের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে ট্রেনে সরাসরি আম যেতে পারলে দাম বেশি পাবে কৃষকেরা।

চককীর্তির নিরাপদ আম উৎপাদনকারী চাষী কবির হোসেন জানান তিনি এ বছরে ২৫ হাজার আম ফ্রুট ব্যাগিং করেছেন। রপ্তানিযোগ্য করায় সব শর্ত মানায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু অর্ডার না পাওয়ায় দারুনভাবে হতাশ। শেষ পর্যন্ত গত বছরের মতো লোকসান গুনে স্থানীয় বাজারে আম বাজারে বিক্রি করবেন। বিশ্ব নাথপুরের আওয়াল একই কতা বলেন। প্রায় সহস্রাধিক চাষী একটি সাদা কাগজে চুক্তি করে থাকে। যার কোন জবাবদিহিতা না থাকায় ইচ্ছে করলেই তাদের রপ্তানি আদেশ দানকারি আদেশ বাতির করতে পারে। এতে করে আম উৎপাদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। অন্যদিকে আমচাষী ফজলুল হক জানান, তিনি ১৭ সালে রপ্তানিযোগ্য ৩০ টন আম উৎপাদন করে ১ টন,১৮ সালে৫০ টন আম রপ্তানি করেন। চলতি বছরে ২০ টন আম উৎপাদন করলেও এখন পর্যন্ত কোন রপ্তানির আদেশ পান নি। শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান জানান চলতি মৌসুমে মাত্র ৫ মেট্রিক টন আম ইউরোপে রপ্তানি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে ব্যাগিং করা আমের দাম চড়া। তাই আমদানিকারকরা খুবই হতাশ। এ কারনেই রপ্তানিতে ধীর গতি।

বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রোডিউসার মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ জানান, সারাদেশে আমের উৎপাদন বেড়েছে। এতে করে আমের নায্যমূল্য নিশ্চিত হচ্ছেনা। চাঁপাইয়ে প্রতিবছর বিষমুক্ত আমের পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু রপ্তানি বাড়ছে না। এ জন্য সরকার কে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারনের উপপরিচালক আম রপ্তানির পরিসংখ্যাণ তুলে ধরে আম রপ্তানির পরিমাণ কমে যাবার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে রাষ্ট্র উদ্যোগী হয়ে রপ্তানির পরিবেশ তৈরী করতে পারলে আম রপ্তানি বাড়বে। এতে করে আম চাষরিা দারুনভাবে উপকৃত হবে। তবে আম চাষীদের স্বার্থে ও জেলার অর্থনীতি চাঙ্গা করতে আম রপ্তানিতে প্রথমেই সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

উপরে