লোকসান ছাড়ছে না মরিচ চাষিদের

লোকসান ছাড়ছে না মরিচ চাষিদের

প্রকাশিত: ০১-০৭-২০১৯, সময়: ১৯:৩৮ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : মরিচ চাষি পবার দুয়ারী মাসুদ রানা বলেন, ‘সবজির দাম বাড়লে বড় বড় করে লেখা হয় বাজারে আগুন লেগেছে। প্রশাসন দিয়ে কৃষকদের হয়রানি করা হয়। দাম কমানোর জন্য বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা টিভিতে চিৎকার শুরু করেন। আর কমলে এসবের বালাই থাকে না। কোন কোন ফসলে লোকসান হচ্ছে সেদিকে কেহ তাকায়ে দেখে না’।

রাজশাহীর মরিচ চাষিদের এবারও মাথায় হাত পড়েছে। মরিচের দাম কমেছে অনাকাংখিত অস্বাভাবিকভাবে। হতাশা নয়, উৎপাদন খরচ না উঠায় দিশেহারা হয়ে পড়ছে চাষিরা। প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি করে চাষিরা কোন টাকায় পাচ্ছে না। অনেকে মরিচের আবাদ ভেঙ্গে অন্য আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এবারে প্রথম থেকেই মরিচের দামে ধ্বস নেমেছে। এ অবস্থা থাকলে চাষিরা মরিচের আবাদ নষ্ট করে ফেলবে। দাম না থাকায় উৎপাদন খরচ উঠছে না। পাইকারি বাজারে ক্রয়কৃত মরিচ খুচরা বাজারে দ্বিগুন তিনগুন দামে বিক্রি হলেও প্রান্তিক চাষিদের উৎপাদন খরচ উঠছে না। গতকাল রোববার খড়খড়ি বাইপাস হাটে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় ৮-১৫ টাকায়।

গতবার দাম ভাল পাওয়া যায়নি। গতবারের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবারো ব্যাপক জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গত মৌসুমের অর্জনের চেয়ে বেশী জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এবারে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর। গত মৌসুমে মরিচের আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৭৩৭ হেক্টর।

এরপরেও মরিচ ক্ষেতের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করেছেন চাষিরা। কিন্তু অনেকে দাম না পাওয়ায় চাষিরা ক্ষেতের যত্নে অনীহা দেখাচ্ছেন। মোহনপুর উপজেলার নুড়িয়াক্ষেত্র গ্রামের মরিচচাষি মোবারক হোসেন বলেন,‘মৌসুমের শুরুতেই কাঁচা মরিচের দামে ধ্বস নেমেছে। এখনই শ্রমিকদের ঘর থেকে মজুরী পরিশোধ করতে হচ্ছে। ভরা মৌসুমে মরিচের দাম আরো কমে যাবে। তখন গতবারের মত চাষিরা মরিচের ক্ষেত ভেঙ্গে অন্য আবাদে চলে যাবে’।

জেলার পবা উপজেলার একাধিক মরিচ চাষি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর কাঁচা মরিচের দাম ভাল পাইনি। লোকসান পুষিয়ে নিতে চাষীরা এবারও ব্যাপক জমিতে মরিচ রোপন করেছেন। দুই বছর আগে মৌসুমের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মরিচের দাম ভাল ছিল। শুরুতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে একপর্যায়ে তা ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় ওঠে। এরপর উঠে ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত। সেবার দামের পাশাপাশি ফলনও ভালো হয়। কিন্তু এবারে মৌসুমের শুরুতেই হোচট খেয়েছে চাষিরা। দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের দুঃস্বপ্ন এখন বাস্তবে রুপ নিয়েছে। অনেকে ক্ষেতেও যাচ্ছেন না।

গতকাল রোববার রাজশাহীর বিদিরপুর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মরিচের দাম ১২-১৬ টাকা। সোমবার নওহাটা পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৮-১৫ টাকায় বিক্রি হয়। অথচ প্রতি কেজি মরিচ ক্ষেত থেকে উঠাতে খরচ হচ্ছে ১০-১২ টাকা। প্রতি কেজির ভাড়া ২ টাকা এবং খাজনা (টোল) ১ টাকা। এতে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি করে ক্ষেত মালিকের কিছুই থাকছে না। তবে শ্রমিকরা ক্ষেতের মালিককে কিছুটা ছাড় দিয়েছেন। চাষিদের লাভ না হওয়ায় শ্রমিকরা খাওয়ার খরচ নিচ্ছেন না। এতে মালিকরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। তাই একজন রশিকতা বলেন, শ্রমিকরাই মালিককে ছাড় দিচ্ছেন।
পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, কৃষি বিভাগ দেখে থাকে আবাদের দিকটা। দামের বিষয়টি দেখভাল করে থাকে বাজার মনিটরিং কর্মকর্তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হকও একই কথা বলেন। তবে তিনি বলেন প্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই কৃষি আবাদ হয়ে থাকে। ঝুকির মধ্যে থেকেই চাষিরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দাম না পেলে চাষের আগ্রহ হারাবে। দামের বিষয়টি বাজার মনিটরিং সংশ্লিষ্টরা দেখভাল করে থাকেন।

Leave a comment

আরও খবর

  • রাজশাহীতে যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ২
  • ছেলেধরা গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান রাজশাহী পুলিশের
  • শিশুদের সততা চর্চায় পবার ভালাম-ভবাণীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সততা স্টোর
  • বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার কর্মকর্তাদের সাথে রাসিক মেয়রের মতবিনিময়
  • চারঘাটে পরীক্ষা পরিদর্শন করলেন সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন
  • বাগমারার শ্রীপুরে আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন
  • রাজশাহীতে ছেলেধরা সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি
  • রাসিকের ৫ম বিভাগীয় সমন্বয় সভা
  • রাজশাহীতে জাল রুপি তৈরীর কারখানা
  • আরএমপির জঙ্গী ও মাদক বিরোধী আলোচনা সভা
  • রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের ২২ কিলোমিটারের কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও
  • মুক্তিযোদ্ধা শহীদের মৃত্যুতে মেয়র লিটনের শোক প্রকাশ
  • রাজশাহীতে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের লুকোচুরি
  • রাজশাহীতে ছেলেধরা সন্দেহে দুই যুবককে গণপিটুনি
  • দুর্গাপুরে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় ৭০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার



  • উপরে