রাজশাহীতে ভুট্টা আবাদ বাড়ছে

রাজশাহীতে ভুট্টা আবাদ বাড়ছে

প্রকাশিত: ১০-০৬-২০১৯, সময়: ১৬:৫৭ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানুষের খাদ্য ছাড়াও দেশের পোল্ট্রি, ফিস ও ডেইরি সেক্টরে রয়েছে ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা। এই চাহিদা মেটাতে ও লাভজনক হওয়ায় রাজশাহীতে বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। ভুট্টা চাষ করে সোনালি স্বপ্ন দেখছেন রাজশাহীর চাষি। চলতি বছর ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে।

জেলার অধিকাংশ উপজেলায় প্রতি শতাংশ জমিতে ১ মণের অধিক ফলন হয়ে থাকে। সংগৃহীত ভুট্টা বাজারে ভালো মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় হাটবাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) নতুন ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৬২০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায়। এতে সোনালি স্বপ্ন দেখছেন চাষি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর জানায়, এবার খরিপ-১ মৌসুমে রাজশাহীতে ভুট্টা চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৭৪০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ১৫৫ হেক্টর। এছাড়াও রবি মৌসুমে প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল। গতবছর আবাদ হয়েছিল ৮ হাজার ৯৯০ হেক্টর।

কৃষিবিদ ও ভুট্টা চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমাদের দেশে দিনদিন বাড়ছে ভুট্টার চাহিদা। এখানে মানুষের খাদ্য ছাড়াও পোল্ট্রি, ফিস ও ডেইরী সেক্টরে প্রচুর পরিমানে ভুট্টা ব্যবহত হচ্ছে। আর এই চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। তারপরও প্রচুর পরিমানে ভুট্টার ঘাটতি থাকে। রাজশাহীতে সাধারনত চলতি খরিপ-১ মৌসুমে ভুট্টার আবাদ বেশি হয়। এই সময় চাষিরা জমি থেকে আলু উঠানোর পর ভুট্টা বীজ বপণ করে। আলুর জমিতে আবাদ করার কারনে বাড়তি সার- লাঙ্গল লাগেনা। শুধু প্রয়োজন মত ২/১টি সেচ দিতে হয়। এই মৌসুমে ভুট্টার আবাদ করে কম খরচে উৎপাদন ভালো হয়।

চাষিরা জানান, এবার মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া ভুট্টা চাষের অনুকুলে থাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে এই অঞ্চলের ভুট্টা আবাদ। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষিরা ভুট্টার ভালো ফলনের আশা করছেন। পবার দুয়ারি এলাকার চাষি গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। পরে দফায় দফায় বৃষ্টিতে আবাদ ভালো হয়েছে। তিনিসহ তার এলাকার চাষিরা বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মন ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতিমন ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ ২০ থেকে ৭শ’ টাকায়। ভুট্টা আবাদ করতে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। উৎপাদন ভালো হলে এই দামে চাষিরা ভুট্টা বিক্রি করে লাভবান হবেন।

কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) সূত্রে জানা গেছে, ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশি। এতে প্রায় ১১ শতাংশ আমিষজাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে অ্যামাইনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমাণে আছে। এছাড়া হলুদ রঙের ভুট্টাদানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন ‘এ’ থাকে। ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য এবং ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নতমানের গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। শুধু পশু ও মুরগির খামার এবং মাছের চাহিদা মেটানোর জন্যই বছরে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টন ভুট্টাদানা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ভুট্টার জমি দ্রুত বাড়ছে। বেলে দো-আঁশ ও দো-আঁশ মাটি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। তবে লক্ষ রাখতে হবে যেন জমিতে পানি জমে না থাকে।

দেশে বর্ণালী, শুভ্রা, খই ভুট্টা, মোহর, বারি ভুট্টা-৫, বারি ভুট্টা-৬ ও বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১ নামের সাতটি জাতের ভুট্টার চাষ হয়। ভুট্টার মোচা চকচক খড়ের রঙ ধারণ করলে এবং পাতা কিছুটা হলদে হলে সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। এ অবস্থায় মোচা থেকে ছড়ানো বীজের গোড়ায় কালো দাগ দেখা যাবে। ভুট্টা গাছের মোচা ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পরিপক্ব হলে ভুট্টা সংগ্রহ করা যাবে। বীজ হিসেবে মোচার মাঝামাঝি অংশ থেকে বড় ও পুষ্ট দানা সংগ্রহ করতে হবে।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, এবার ভুট্টার ফলন ও দাম দুই-ই ভালো। আবাদ ভালো হলে প্রতি শতাংশে ১ মণের অধিক ফলন হয়। তিনি বলেন, ভুট্টার আবাদ বাড়ানোর জন্য ঝড়, খরা ও লবণাক্তসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের পথে রয়েছে। এরই মধ্যে ঝড়সহিষ্ণু জাত বারি ভুট্টা-১২ ও বারি ভুট্টা-১৩ উদ্ভাবিত হয়েছে।

এছাড়া মানুষের খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার বাড়াতে সাদা ভুট্টার জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। ফুল আসার আগে একটি মাত্র সেচ দিয়ে ভুট্টার আবাদ করা সম্ভবÑ এমন জাতও উদ্ভাবন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভুট্টার উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। তুলনামূলক সেচ কম হওয়ায় কৃষক এখন ভুট্টার আবাদ করছেন। উন্নত বীজ ও দামের নিশ্চয়তা দিতে পারলে ভুট্টা চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপরে