চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের উৎপাদন-রোগ বালাই ও কৃষকের চাহিদা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের উৎপাদন-রোগ বালাই ও কৃষকের চাহিদা

প্রকাশিত: ০৯-০৪-২০১৯, সময়: ২২:৫১ |
Share This

ডি এম কপোত নবী : আম সাম্রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুকুল বা বোল আসা একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আবহাওয়ার কারনে এবার প্রতিটি আম গাছে প্রচুর পরিমানে মুকুল আসে। যার কারনে এবারের আম চাষীরা খুবই খুশী। পাশাপাশি অধিকাংশ বাগান মালিক নতুন করে বুক বেধেছে। বেশ কয়েক বছর ধরে আম বাগানে লোকশান গুনতে গুনতে তারা হয়রান হয়ে পড়েছিলেন। এবার এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পুরান দিনের লস বা লোকশান এবার পোষিয়ে নিতে পারবেন বলে বাগান মালিকদের আশা। তাই ইতোমধ্যেই তর তর করে বাগানের মূল্য উঠা শুরু করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছেড়ে শিবগঞ্জ, কানসাট হয়ে সোনামসজিদ পর্যন্ত বাগানের সরিয়ে আকাশের দেখা মিলেনা। প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে সারি সার বাগানের অস্তিত্ব। শিবগঞ্জে এবার ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আম গাছ থাকায় এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত হাটলেও আম বাগানের শেষ হবেনা। এ এক অভ’তপূর্ব দৃশ্য। মনে হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসব মুকুল ধরা বাগানের নিচ দিয়ে এখনও হেটে চলেছেন। এক সময়ে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের গান রচনা করেছিলেন তিনি এই অঞ্চল ঘুরেই। তাইতো লিখেছেন “ও মা ফাগুন তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে। তার পরের পেরায় লিখেছেন-

“ও মা অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কি দেখেছি মধুর হাসি”

মনে হবে রবী ঠাকুর এই অঞ্চলের আম বাগান আর ধান ক্ষেতের মধ্যে বিচরন করতে করতেই এইসব লিখেছিলেন। নওগাঁর পাতিস্বও আল মালদহ ঘুরার সময়ে তিনি বাগান অবলোকন করেন এবং বরেন্দ্রতে ঘুরার সময়ে (অঘ্রাণে) তিনি ধানক্ষেত দেখেন। সেই সব আম গাছে এবার বোল থেকে মটরের দানা আকারের আম বেরিয়ে পড়েছে। তাইতো চাষীর মুখে এতো হাসি। যা পূর্বে অনেকদিন দেখা যায়নি। মনে হবে রবী ঠাকুর এবারও আম চাষী আর ধান চাষীদে মুখে হাসি তুলে দিয়েছেন। সেই সব আম বাগানে বছরের কোন সময়েই সূর্য্যওে আলো প্রবেশ করতে পারেনা। সেই সব আম বাগানে এবার মুকুলের সমারোহ। এইসব গাছের পরিমান ২০ লাখ ছড়িয়ে যাবে। জমির পরিমান গিয়ে দাড়িয়েছে ২৬ হাজার হেক্টরের কাছাকাছি। কারন কয়েক বছওে জেলার পুরো বরেন্দ্র ও দিয়াড় অঞ্চলে আম গাছের ও বাগানের পরিমান বেড়েছে দ্বিগুন হারে। বিশেষ কওে দিয়াড় ও বরেন্দ্র অঞ্চলের যে সব জমিতে ফসলের দেখা নেই, আবার ফসল হলেও ফলন নেই, কৃষক সে সব জমিতে কয়েক বছরে আমের গাছ লাগিয়ে দারুন ভাবে উপকৃত হয়েছেন। মটর দানার আম যেন ঝরে না পড়ে তার জন্য কৃষক এখন বাগান মুখী হয়ে পড়েছে। পরিচর্যা করছে বড় বড় ও ছোট ছোট আম গাছের।

জলবায়ূ ও মাটি : আম প্রায় যে কোন প্রকার মাটিতে জন্মে। তবে আম গাছের জন্য মাটি গভীর হওয়া প্রয়োজন। সাধারনত: ২-৬ মিটার গভীরতা যুক্ত মাটিতে আম চাষ ভাল হয়ে থাকে। আম গাছের জন্য মাটি কিছুটা অম্লীয় হওয়া প্রয়োজন। যা এই অঞ্চলের মাটিতে প্রচুর পরিমানে রয়েছে। আমের জন্য মাটির অম্লতা বা পিএইচ মান ২.৫-৭.০ সর্বোত্তম। স্থান নির্বাচনে রয়েছে বড় ধরনের মুন্সি আনা। আম বাগান স্থাপনের জন্য উচু ও সুনিস্কাশিত জমি খুবই উপযোগী। সেচের সুবিধার বিষয়েও নজর দিতে হবে। পুরো শিবগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট ও নাচোলে বিদ্যমান। বাজার ও রাস্তার পাশে বাগান হলে বহু ধরনের সুবিধা প্রয়োজন। রাস্তার পাশে জমি হলে পরিবহন সুবিধা অধিক পরিমানে পাওয়া যায়। এছাড়াও জমির মূল্য কম হওয়া একেবাওে বাঞ্চনীয়। শ্রমিক সহজ লভ্যতার বিষয়টিও মাথায় রেখে বাগানে স্থান নির্বাচন আবশ্যকীয়। যা এসবের সব কিছুই রয়েছে। বাগানের আকারে আমের চাষ করতে হলে নির্ধারিত জমি চাষ ও মই দিয়ে সমতল করতে হবে। জমিতে কোন ধরনের শক্ত জিনিষের অবস্থান থাকবেনা। গাছের গুড়ি থাকলে উঠিয়ে ফেলতে হবে। জমি কর্ষণ করা থাকলে আম গাছের শিকড় বৃদ্ধিতে বড় ধরনের সুবিধা ও খাদ্য সংগ্রহে বড় ধরনের সহজ লভ্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়।
আম গাছ লাগানোর ব্যাপারেও সচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে। বাগানে আম গাছ ত্রিভূজাকার, বগ্রাকার, আয়তাকার, ষড়ভূজাকার পদ্ধতিতে রোপন করলে গাছ বড় হলেও সমস্যার সৃষ্টি করবেনা। পাশাপাশি জাত নির্বাচনেও বড় ধরনের দৃষ্টি দিতে হবে। বিদেশের বাজাওে রঙিন ও হালকা মিষ্টি জাতের প্রচুর চাহিদা বিদেশের বাজারের কথা চিন্তা কওে এই সব জাতের আমের গাছ লাগাতে হবে। এইসব জাত নিয়মিত ফল দেয় কিনা, আকার আকৃতি, আশ্ব ও রসের পরিমান, মিষ্টতা, শতকরা ভক্ষণযোগ্যতা, সংরক্ষন যোগ্যতা প্রভৃতি বিষয় মাথায় রেখে বাগান সম্প্রসারিত করতে হবে। চারা নির্বাচনেও লক্ষ্য রাখা একান্ত প্রয়োজন। সুস্থ, সবল ও রোগ-পোকার আক্রমন মুক্ত চারা নির্বাচন করলেই উত্তম ফলন আশা করা যায়। ২-৩ বছরের বয়সী ভিনিয়ার বা ক্রেফট কলমের চারা লাগানো উত্তম। বীজের চারাতে মাতৃগুন বজায় থাকেনা বলে এসব বর্জন করে চারা সংগ্রহ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব ও হর্টিকালচার সেন্টাওে চারা সংগ্রহ করা ভালো। তবে শীতকালে চারা না লাগিয়ে বর্ষা মৌসুম অর্থাৎ জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় বা ভাদ্র-আশ্বিন মাসে চারা রোপন করা উত্তম বলে মনে করেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। আম গাছ সাধারণত: ১২ মিটার বা ৪০ ফুট দূরত্বে লাগাতে হবে। দূরত্বে গাছ ৭০-৮০ বছর অন্য গাছের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করে না। তবে ইদানিং ১০ মিটার দূরত্বে গাছ লাগানোর প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে খাটো জাতের আম গাছ ৬-৮ মিটার দূরত্বে লাগালেও ক্ষতি নেই।

আমের চারা গাছ রোপনের পর জীবন ধারণ, সুষ্ঠু বর্ধন ও সুষম ফলদানের জন্য উপযুক্ত পরিচর্যা একান্ত প্রয়োজন। লাগানোর পর পরই গাছে নিয়মিত পানি দেওয়া আবশ্যক। তবে বর্ষকালে পানি তেমন না দিলেও চলবে। তবে গাছের গোড়ায় পানি জমে যাতে না থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে। চারা গাছের গোড়ায় আগাছা নিধনেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তবে নিয়মিত সার দিলে গাছের বাড়ন্ত অবস্থা অব্যাহত থাকবে। চারা গাছের গোড়ার কাঠামো ঠিক ও সোজা রাখার জন্য কিছুটা প্রয়োজনীয় ডাল ছাটাই করা উচিত। চারা গাছের এনথ্রাকনোজ আগামরা, অঙ্গঁজ বিকৃতি ও মুকুল বিকৃতি রোগ দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় জরুরী ভাবে তা দমন করতে হবে। বিশেষ কওে পাতা কাটা, হপার আক্রমন দেখা দিলে দমনের ব্যবস্থা নিলে ভাল হয়। কলমের গাছে লাগানোর পরবর্তী বছর থেকেই মুকুল বা ফল আসতে পারে। তবে ছোট গাছে মুকুল ও ফল ভেঙ্গে ফেলা আবশ্যক। কারন মুকুল থাকলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হবে। পাশাপাশি গাছ দূর্বও হয়ে যেতে পারে। গাছের বয়স ৩/৪ বছর না হলে ফুল, ফল ধরতে দেয়া একেবাওে উচিত নয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের প্রধান উপ পরিচালক, কৃষি বিজ্ঞানী ড. সাইদ জানান এইসব পদ্ধতি মেনে না চললে নতুন বাগান তৈরী করতে বড় ধরনের অসুবিধা হবে। তবে প্রতি বছর আম উৎপাদনের জন্য কিছু করনীয় আছে। নিয়মিত ফলদানকারী জাত প্রতি বছর ফল দিয়ে থাকে। এইসব জাতের চাষাবাদ যে স চাষী করে থাকে তারা প্রতিবছর ফল পেয়ে থাকে। যা এখন প্রচুর পরিমানে আবাদ হচ্ছে।

এছাড়াও গাছে ফল আহরনের পর পরই জৈব সার ও পরিমানমত রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে। দু-এক বছর অন্তর সবুজ সারের চাষ করলে বাগান ভাল থাকবে। খরাকালীন অবস্থায় নিয়মিত সেচ দিতে হবে। গাছে যে বছর প্রচুর মুকুল আসবে তার এক চতুর্থাংশ বা এক তৃতীয়াংশ ছেটে দিলে পরের বছর সেই অংশে মুকুল ও ফল আসবে। তবেই প্রতি বছর প্রচুর পরিমান আমের ফলন বৃদ্ধি পাবে। সঠিক সময়ে ও সঠিক পদ্ধতিতে টিপ গ্রুনিং (কান্ডের আগা ছাটাই) করলে পরের বছর ভাল ফলন হবে। গাছ বেশী জোরালো হয়ে গেলে ফল ধারন করেনা বা অল্প ফল দেয় সে ক্ষেত্রে ২-৩ বছর বয়সী শাখায় (১৫ সেমি ব্যাসযুক্ত) জুলাই আগষ্ট মাসে বলায়কর অর্থাৎ রিং আকাওে ৬ মিলি বা সিকি ইঞ্চি পরিমান ছাল তুলে ফেললে মৌসুমে মুকল আসবে।

এবার এখন পর্যন্ত আমের মুকুলে কোন ধরনের রোগ ব্যাধির আক্রমন হয়নি। সাধারনত: পাউডারি মিলডিউ রোগের আক্রমন হয়ে থাকে। এ রোগের জীবানু আমের মুকল আক্রমন করে। এটি একটি মারাত্মক রোগ। আমাদের দেশে এই রোগের আক্রমন প্রতিবছর হয়না। কোন কোন বছর অনুকুল আবহাওয়া না থাকলে এই রোগের আক্রমন হয়না। এ বছর এই রোগের কোন ধরনের আক্রমন ছিলনা। ফলে চাষীরা দারুন ভাবে উপকৃত হয়েছে। এক ধরনের ছত্রাক থেকে এই রোগের সংক্রামক হয়ে থাকে। মুকুল থেকে মটরের দানার মতো আম বেরিয়ে পড়ায় এবার আর মুকুল আক্রান্ত হয়নি। এই রোগ অল্প কিছু গাছে দেখা দিলেও মোকাবেলা করে তা অপসারণ করা হয়।

আগামরা : তবে আগামরা রোগ সব এলাকায় দেখা যায়। আগামরা রোগ দেখা দিয়েছে এবারও। সব বয়সের গাছে এই রোগ আক্রমন করে থাকে। পুষ্ঠিজনিত এই রোগ আক্রমন করে থাকে গাছে। রোগের আক্রমনে গাছ দুর্বল হয়ে যায় এবং গাছের ফল ধারন ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। কিছু কিছু গাছে ইতোমধ্যেই এর আক্রমন হয়ে থাকলেও আম চাষীরা খুবই সচেতন ভাবে তা অপসারনে রাত দিন কাজ করে যাচ্ছে। যদিও অধিকাংশ গাছে সার প্রয়োগ করায় এখন অপুষ্ঠিজনিত রোগের প্রকোপ অনেকটাই কমে এসেছে। রোগের জীবানু মরা ডাল ও পুরাতন পাতায় অবস্থান করে। রোগের বীজকনা বাতাসের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। তবে উচ্চ তাপমাত্রা, শতকরা ৮৫ ভাগের উর্দ্ধে বাতাসের আদ্রতা এবং অধিক বৃষ্টিপাত এ রোগের আক্রমন ও বিস্তার অনেক সময়ে অনুকুল অবস্থার সৃষ্টি করে। তবে বর্ষা শুরু হলে এই রোগের সম্প্রসারণ ও বিস্তার কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। তবে অপুষ্ঠিজনিত গাছ না থাকায় এই রোগের আক্রমন এবার হবেনা বলে কৃষি বিজ্ঞানীদেও অভিমত।

তবে একটি রোগ বিকৃতি হতে পারে গাছের। তিন দশক পুর্বেও রোগটি আমাদের দেশে ছিলনা। ভারতের কোন কোন জাতে ৩টি মারাত্মক সমস্যারূপে চিহ্নিত। আক্রমনের স্থান অনুযায়ী বিকৃতি দুই প্রকারের। যথা মুকুলের বিকৃতি ও দৈহিক বিকৃতি। এবার মুকুল বিকৃতির সময় পেরিয়ে গেছে। দৈহিক বিকৃতি সাধারণত চারা গাছ ও ছোট গাছে দেখা যায়। তবে ভারতীয় জাত সাধারণ বড় বড় বাগানে নেই। তাছাড়া অধিকাংশ বাগানের গাছ অনেক বড় ও বয়সে বেশি। বিধায় এই রোগ হবার কোন কারন নেই। কৃষি বিজ্ঞানীদের অভিমত শরিরতাত্ত্বিক, ভাইরাস, মাইট বা ছত্রাকজনিত তবে নতুন করে এই রোগ হবার কোন লক্ষন নেই কোন আম বাগানে। এই রোগের প্রধান প্রতিকার হচ্ছে রোগমুক্ত গাছের বীজ থেকে তৈরী চারা কোন ভাবেই এই রোগ সম্প্রসারণ করতে পারেনা। তাছাড়া একই ভাবে কলম তৈরীর সময় রোগমুক্ত গাছ থেকে ডগা বা সায়ন সংগ্রহ করতে হবে। তবে বারি-১ ও ২ এবং ল্যাংড়া, ফজলী সহ ১৩টি বিশেষ জাতে এই রোগ একেবারেই দেখা যায়না। এছাড়াও আরও ১২টি রোগ রয়েছে আম গাছের জন্য। তবে ক্ষিরসাপাতে দাদ রোগের লক্ষন খুব বেশি দেখা যায়। রোগের আক্রমনে আম ঝরে পড়ে এবং আমার শরীর খসখসে হয়ে যায়। এই আমের বাজার দর কমে যায়। সাম্প্রতিক কালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত জিও অনুমোদন পেয়েছে। তাই সবার নজর এখন খিরসাপাতের উপর। এই আমে যাতে দাদ রোগ না হয় সে ব্যাপারে কৃষি বিজ্ঞানীরা খুবই সজাগ। সার্বক্ষনিক তারা খিরসাপাত গাছ দেখভাল করছেন।

আমে রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র রোগরাল (প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম) অথবা বাভিষ্টিন প্রতি লিটার পানিতে এক গ্রাম হারে ঢেলে দিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর ৩/৪ বার স্প্রে করে গাছ রোগমুক্ত করা যায়। যেহেতু আমটি সরকারী অনুমোদন পেয়েছে সেহেতু চাষী থেকে শুরু করে কৃষি বিজ্ঞানীরা রাতদিন সজাগ দৃষ্টি রেখে চলেছেন। আম গাছ লাগানোর পর থেকে ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত বিভিন্ন পোকার আক্রমন গাছে দেখা দিতে পারে। সুতরাং আমের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সঠিক সময়ে পোকা দমন অপরিহার্য। আমের প্রধান প্রধান ক্ষতিকারক পোকা পরিচিতি ও তাদের ক্ষতির ধরন এবং দমন বিষয়ে পরামর্শের জন্য হটিকালকালচার, কৃষি সম্প্রসারণ ও আম গবেষণা তত্ত্ব অফিসের বিজ্ঞানীদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগের করার পরামর্শ আম চাষীদের কাছে। তবে এবার আমের ফলন অধিক হবার কারনে বাজার মূল্য যেন কমে না যায় যে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। এবার আমের অধিক উৎপাদনের কারনে আম বাজারে আসেত সময় নিবে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে এবার বাজারে পাকা আম আসবে। তবে প্রশাসনের খবর দারি পাকা আমের ক্ষতি করে থাকে। তাই এবার প্রশাসনকে ছেড়ে দিতে হবে আম কৃষকদের হাতে। কখন আম পাড়তে হবে এই বিষয়টি কয়েক বছর ধরে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের কারনে আম চাষীরা দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এখানে নানান জাতের আম রয়েছে। এর পরিপক্কতার ও সময় আম চাষীরা ভাল বুঝে থাকে। পাকা আম কখন পাড়তে হবে তা আম চাষীদেও হাতে ছেড়ে দিলে সব চেয়ে বেশী ভাল হবে। কারন ইতোমধ্যেই “খিরশাপাত” যেমন জিও অনুমোদন পেয়েছে। তেমন চেষ্টা চলছে আরো দুটি জাত নিয়ে এর একটি ল্যাড়া, অপরটি আশ্বিনা। পরের অর্থাৎ আশ্নিনা জিও পেলে কৃষকরা বেশী উপকৃত হবে। কারন জাতটি পাকার পর দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু ল্যাংড়াতে তা হয়না। এটি আগাম জাত হবার কারনে সংরক্ষনে বেশি সময় নিতে পারেনা। বাজারে আসা মাত্র সময় শেষ হয়ে যায়।

লেখক : পদ্মাটাইমস-২৪ প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

আরও খবর

  • বাবাকে নিয়ে মেয়র লিটনের স্মৃতিচারণ
  • অকাল মৃত্যুর মিছিল বন্ধে পদক্ষেপ জরুরি
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময় কমানো জরুরি
  • শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
  • নদীতে পানির বড় আকাল
  • ই’তিকাফ অর্থ স্থির থাকা
  • বজ্রপাতে মৃত্যুর হার কমাতে তালগাছ রোপণ জরুরী
  • তারাবীহর নামায সুন্নতে মোয়াক্কাদাহ (পর্ব-৩)
  • পেনশনের দ্বৈতনীতি সংশোধন প্রয়োজন
  • রমজানে মুমিনের রিযিক বাড়িয়ে দেয়া হয়
  • মুজিব বর্ষ ২০২০-২০২১ উদযাপনে কিছু পরামর্শ
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের উৎপাদন-রোগ বালাই ও কৃষকের চাহিদা
  • অকাল মৃত্যুর মিছিল বন্ধে তামাকপণ্যের কর বৃদ্ধি জরুরি
  • ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট খোলা চিঠি
  • বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শিশু ভাবনা, পরবর্তী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা



  • উপরে