সোনালীর পথে গমের শীষ

সোনালীর পথে গমের শীষ

প্রকাশিত: ০৭-০৩-২০১৯, সময়: ১১:৫৪ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগাম গমে পাক ধরতে শুরু করেছে। তবে বেশীরভাগ ক্ষেতের পাকতে এখনো মাস খানেক দেরী হবে বলে জানান চাষিরা। অনুকুল আবহাওয়ায় এবারে রাজশাহী জেলায় গমের আবাদ ভাল হয়েছে। তবে বরাবরের মত বাজারে কাংখিত দাম নিয়ে হতাশায় ভুগছেন।

সঠিক সময়ে গম বপন করায় আবাদ ভাল হয়েছে বলে জানিয়েছে চাষি ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা। গতবারের চেয়ে এবারে প্রায় ১৪ হাজার বিঘা বেশী জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে গম চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আবাদ হয়েছে ২৫ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে। গতবার আবাদ হয়েছিল ২৩ হাজার ৪৩১ হেক্টর।

গমচাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমের শুরু থেকে অনুকুল আবহাওয়া থাকায় চাষিরা ভালভাবেই গম বীজ বপন করেছেন। এখন কোন ক্ষেতেই গমের শীষ বেরুতে বাকি নাই। অনেক ক্ষেতের আগাম গম পাকতে শুরু করেছে।

গোদাগাড়ি উপজেলার মাটিকাটার প্রবীণ চাষি সিরাজ মন্ডল বলেন, গভীর নলকুপ আসার আগে রবি মৌসুমে জেলার বেশীরভাগ জমিতে চাষিরা গমের আবাদ করতো। বিভিন্ন কারণে এবং সেচ সুবিধা থাকায় চাষিরা ওই জমিতে অন্য আবাদ করছেন। ফলে কমে যায় গমের আবাদ। আবার গমের আবাদ করলে সেই জমিতে বোরো ধানের চাষ করা যায় না। ওই জমিতে আলু করলে ধানও করা যায়। তাছাড়া ধানের দাম বাড়লেও গম আবাদ করে এর নায্যমুল্য থেকে বঞ্চিত হন চাষিরা। এজন্য গম চাষে চাষিদের মাঝে অনিহা দেখা দেয়। তবে সেচ ও আলুর দাম কম থাকায় এবারে চাষের আবাদ বেড়েছে। ভাল উৎপাদনের আশা করছেন তারা।

পবা উপজেলার দুয়ারী গ্রামের গমচাষি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আলু ও ধানের চেয়ে গমচাষে সেচ কম লাগে। গম সংরক্ষণেও সুবিধা আছে। মোহনপুর উপজেলার বিদিরপুর এলাকার গমচাষি আবু বাক্কার বলেন, এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছেন। গমবীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকুল এবং আলুর আবাদ কম হওয়ার এই এলাকায় গমের আবাদ গতবারের চেয়ে বেশী হয়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আবাদের ক্ষতি হবে বলে তারা জানান। কিন্তু কৃষি অফিস জানান, বেশীরভাগ গম ক্ষেতে কেবল শীষ বেরুচ্ছে। বৃষ্টির পানির পরে আবারো কয়েকদিনের রোদে শুকানোর ফলে ক্ষতি হবে না। তবে এখন যদি আবারো বৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানলে ক্ষতির আশঙ্কায় বেশী থাকবে।

গম গবেষনা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী বারিগম- ৩০, ৩২ ও ৩৩ জাত উদ্ভাবন করে। এর মধ্যে বারিগম- ৩০ ও ৩২ সারাদেশে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে বারিগম- ৩৩ শুধু ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধীই নয়, এটি জিংক সমৃদ্ধ একটি জাত। রাজশাহী অঞ্চলের জেলাগুলোতে চলতি মৌসুমে বারিগম- ২৮, ২৯, ৩০, ৩১ ও ৩২ জাতের গমের আবাদ করেছে। এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলের আবহাওয়া গম চাষের অনুকুলে থাকায় এবার উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামশুল হক জানান, এবারে আবাদ গতবারের চেয়ে বেশী হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকায় উৎপাদন আশানুরুপ হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চাষিরা লাভবান হবেন।

Leave a comment

আরও খবর

  • রাজশাহীতে সেলুন পাঠাগারের উদ্বোধন
  • বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রতনকে সংবর্ধনা
  • রাজশাহীতে চোখে ছানি রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা
  • পুঠিয়ায় রসুনের মাঠ দিবস এবং রিভিউ ডিসকাসন
  • বাগমারায় কাবাডী প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ড অনুষ্ঠিত
  • রাজশাহী বার ভবন নির্মাণে ৩ কোটি টাকা দিবেন আইনমন্ত্রী
  • রাজশাহীতে লেভেল ক্রসিং সামলাচ্ছেন যে নারী
  • তানোরের আলু ক্ষেতে গোখরা আতঙ্ক
  • রাজশাহীতে দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিক আহত
  • রাজশাহীতে নৌবন্দর স্থাপনে পদ্মায় খনন
  • রাজশাহীর বিস্তীর্ণ সীমান্তে কেন থামছে না মৃত্যুর মিছিল?
  • রাজশাহী জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৩৭
  • রাজশাহীতে যুবলীগ নেতা শহীদ ময়নুলের কথা কেউ মনে রাখেনি
  • রাজশাহীতে বিজিবি চেকপোষ্টে গাড়ি তল্লাসী, ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার
  • রাজশাহীতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক ১



  • উপরে