পুঠিয়া-চারঘাটে কৃষকের ভাগ্য ফেরাতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে সোলার পাম্প

পুঠিয়া-চারঘাটে কৃষকের ভাগ্য ফেরাতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে সোলার পাম্প

প্রকাশিত: ১০-১০-২০১৮, সময়: ২২:০৩ |
খবর > কৃষি
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, পুঠিয়া : বরেন্দ্র এলাকায় খালে পানি সংরক্ষনের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ কর্মসূচী প্রকল্পে রাজশাহীর চারঘাট, পুঠিয়ায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে পরিবেশবান্ধব সোলার এলএলপি পাম্প। সোলার পাম্পের মাধ্যমে স্বল্প খরচে ২ উপজেলার জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ করা হয়েছে। ডিজেলের চেয়ে খরচ কম হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা এখন নির্ভর হয়ে পড়েছেন বিকল্প সেচ ব্যবস্থা সোলার পাম্পের ওপর। এ কাজে সহযোগিতা করছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সোলার পাম্পের মাধ্যমে চাষাবাদ করে কৃষকের খরচ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছেন কৃষকরা।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পুঠিয়া জোন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এলএলপি স্থাপনকৃত খালে নাম নারোদ খাল (চারঘাট, মুক্তারপুর ঘাট হতে পুঠিয়া বারইপাড়া পর্যন্ত)। খালের দৈর্ঘ্য ৩০ কিলোমিটার। মোট সোলার এলএলপি সংখ্যা ২০ টি। প্রতিটি সোলারের ক্ষমতা ১৮ কিলোওয়াট, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ শক্তি ৩৬০ কিলোওয়াট। সম্পুরক সেচ এলাকা ৪৮৫ হেক্টর। উপকৃত কৃষক পরিবার ২৮৫০ জন। এই এলাকায় নারদ নদীতে ১৭ টি এবং সন্ধ্যা নদীতে ৩ টি মোট ২০ টি সোলার এলএলপি স্থাপন করা হয়েছে।

জানা গেছে, আমন, বোরো ও রবি তিন ফসলেই সৌর শক্তি ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি ওঠানো যায়। তবে বোরো মৌসুমের দিকে তাদের মনোযোগ থাকে বেশি। কারণ ওই সময় জাতীয় গ্রিডে প্রচণ্ড চাপ থাকে। চাহিদা বেশি থাকায় ওই সময় বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ দিতেই হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে।

নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক শাজাহান আলী, আব্দুর রহমান, মোহাম্মাদ আলী জানান, ইঞ্জিন চালিত শ্যালো মেশিনের সঙ্গে সৌর বিদ্যুতের পার্থক্য নিয়ে কথা হয় রাজশাহীর চারঘাট ও পুঠিয়ায় কৃষকের সঙ্গে। তারা জানায়, সৌরশক্তি ব্যবহার করে সেচ দিলে প্রতি একর জমিতে সাশ্রয় হয় ছয় হাজার টাকা। পাশাপাশি সময়ও বেঁচে যায়। ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিলে প্রতি বিঘায় ঘন্টায় খরচ পড়ে ১২০ টাকা। এতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় লাগে তাতে খরচ পড়ে ২৪০ টাকা। আর সৌরশক্তিতে প্রতি ঘন্টায় খরচ পড়ে ১৬০ টাকা। অথচ আধা ঘন্টায় এক বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হয়ে যায়।

এছাড়া ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনে পানি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের। শ্যালো মেশিনের মালিকের কাছে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ততক্ষণে ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যায়। সঠিক সময়ে পানি মেলে না। কিন্তু সোলার পাম্পে সে সমস্যা নেই। কৃষককে ছোটাছুটি করতে হয় না। উল্টো তাদের জমিতে পানি চলে যায়। ফলে আগে শ্যালো মেশিনের কাছে গিয়ে যে সময় নষ্ট হতো, সে সময় টুকুতে তারা এখন অন্য কোথাও শ্রম দিয়ে বাড়তি টাকা আয় করছেন।

বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ সেলিম রেজা জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে যেহেতু বোরো ফসল বেশি হয়, সেখানে সোলার পাম্প বেশি বসানো হচ্ছে। আমাদের ব্যাটারি নেই, জেনারেটর নেই, ডিজেল নেই। শুধু সূর্যের আলো ব্যবহার করে সোলার পাম্প পরিচালনা করছি। এ প্রযুক্তি দিয়ে দিনে টানা ৭/৮ ঘণ্টা পানি ওঠানো সম্ভব। সোলার পাম্প পরিবেশবান্ধব। শুধু বোরো মৌসুম নয়, আমন ও রবিশস্য করতেও সোলার পাম্প কাজে লাগে। নিরোবিচ্ছন্ন সেচ দেওয়া যায়।

Leave a comment

আরও খবর

  • মৎস্য খাতে শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্য
  • স্বস্তির বৃষ্টিতে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি
  • পুঠিয়া-চারঘাটে কৃষকের ভাগ্য ফেরাতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে সোলার পাম্প
  • সঠিক নিয়মে উন্নত পদ্ধতিতে পেঁপে চাষ
  • চলতি মৌসুমে ১০ কোটি টাকার গুড় বিক্রির টার্গেট
  • রাজশাহীতে বাড়ছে ‘লাইভ পার্চিং’
  • পুঠিয়ায় প্রদর্শনীর কৃষকদের সার কম দেওয়ার অভিযোগ
  • বরেন্দ্র অঞ্চলে খরার কবলে আমন
  • কৃষিঋণ বিতরণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি
  • পত্নীতলায় বেড়েছে আমনের আবাদ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
  • আগাম মূলা চাষে কৃষকের হাসি
  • মান্দায় ব্রি-ধান ৭২ এর কৃষক প্রশিক্ষণ
  • শিবগঞ্জে আমন ফসলে সবুজের সমারোহ
  • শীত না এলেও সবজি বাজারে
  • বাগাতিপাড়ায় পোকা মারতে আলোক ফাঁদ


  • উপরে