জমিতে বায়োচার ব্যবহার ফসলের ফলনে উজ্জল সম্ভাবনা

প্রকাশিত: ০৯-১০-২০১৭, সময়: ১৮:২০ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : জমিতে বায়োচার ব্যবহারের সুফল পেয়েছেন কৃষক শহিদুল ইসলাম। চলতি মওসুমে ১০ কাঠা জমিতে হলুদের চাষ করেছেন। চাষের সময় জমিতে ব্যবহার করেছেন বায়োচার। তার হলুদের খেত এখন ঝলমল করছে। তরতাজা গাছ দেখে আনন্দে নেচে উঠছে তার মন। খেতের বর্তমান অবস্থায় তিনি বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, জমিতে বায়োচার ব্যবহার করায় রাসায়নিক সার তেমন ব্যবহার করতে হয়নি। চলতি মওসুমে আলুর খেতেও বায়োচার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তার হলুদের খেতে বায়োচার প্রদর্শনীর একটি সাইনবোর্ডও লাগিয়েছে বেসরকারি সংস্থা সিসিডিবির বায়োচার প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ। কৃষক শহিদুল ইসলাম নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের চকশ্যামরা গ্রামের বাসিন্দা।

উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের আরেক কৃষক লহির উদ্দিন মন্ডল ৫ কাঠা জমিতে ধানের চাষ করেছেন। সাম্প্রতিক বন্যায় তার জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এখন তার জমিতে ধানের শীষ দেখা দিয়েছে। বায়োচার ব্যবহারের উপকারিতার কথা অকপটে স্বীকার করেন এই কৃষক। জমিতে বায়োচার ব্যবহারে সুফল পেয়েছে চকশ্যামরা গ্রামের আরেক কৃষক আজিজুল ইসলাম। তিনি এক কাঠা জমিতে বেগুনের চাষ করেছিলেন। অর্ধেক জমিতে বায়োচার ও অবশিষ্ট জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন তিনি। বায়োচার ব্যবহৃত অংশে বেগুনের ফলন ও সাইজ অন্য অংশের চেয়ে অনেকগুন ভাল পেয়েছেন।

সিসিডিবি মান্দার বায়োচার প্রজেক্ট ফ্যাসিলিটেটর জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, উপজেলার কয়েকটি গ্রামের ৩৭ জন নারী ‘আখা’ (কৃষি বান্ধব চুলা) ব্যবহার করছেন। এ চুলা থেকে উৎপন্ন বায়োচার জমিতে প্রয়োগ করেছেন ৫১ জন কৃষক। এদের মধ্যে সবজি চাষি রয়েছেন ১৭ জন। তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে এ উপজেলায় ‘আখা’র মাধ্যমে পরীক্ষামুলকভাবে বায়োচার উৎপাদন শুরু করা হয়। এ সময় ১০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা নিয়মিত আখা ব্যবহার করে রান্নার পাশাপাশি বায়োচার উৎপাদন করেন।

তা বিভিন্ন ফসলে পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। তাদের এমন সফলতা দেখে প্রতিবেশীরাও আখা ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

আখা ব্যবহারকারী গৃহিনী সালমা বেগম ও সুমি খাতুন আরো কয়েক নারী জানান, বাড়ির উঠানে মাদা’য় (গর্তে) বায়োচার মিশিয়ে করল্যা, সিম, লাউ এর গাছ লাগিয়ে তারা সুফল পেয়েছেন। এসব সবজির গুনগত মানও ভাল। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় লাগানো সবজির তুলনায় ফলন অনেক বেশি পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন তারা।
এসব গৃহিনীরা আরো বলেন, প্রচলিত চুলায় বেশি খড়ির প্রয়োজন ও খড়ি পুড়ে ছাইয়ে পরিনত হয়। ‘আখা’য় খড়ি কম লাগে ও ধোঁয়া হয় না। রান্নায় কম সময় লাগাসহ সময় চুলার পাড়ে বসে থাকতে হয় না। এ চুলা ব্যবহারে ধোঁয়াজনিত অসুখ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তারা।

বায়োচার প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষ্ণ কুমার সিংহ জানান, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৪৬ জন, নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ৩৭ ও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ৩৭ জন নারী ”আখা কৃষি বান্ধব চুলা” ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জীবনযাত্রার মান্নোনয়ন ও কার্বন নিঃসরণ কমানোই এই প্রজেক্টের মুল উদ্দেশ্য।

কৃষ্ণ কুমার বলেন, ‘আখাতে’ খড়ির গ্যাসে আগুন জ¦লে ও ধোঁয়া হয় না। ফলে কার্বন কয়লাতে আটকে বায়োচার উৎপন্ন করে। যা কৃষি জমিতে ব্যবহার করলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। তিনি আরো বলেন, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ^বিদ্যালয় বায়োচার নিয়ে সিসিডিবি’র সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানায়, ”আখা কৃষি বান্ধব চুলায়” কাঠের খড়ি ব্যবহার করে বায়োচার উৎপাদন করা হয়ে থাকে। এটি ব্যবহারে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অনুজীবের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। মাটির জৈব গুনাগুন বাড়িয়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

Leave a comment

আরও খবর

  • আ.লীগ ছুটছে হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে
  • একক প্রার্থীর বিষয়ে জোর দিলেন তৃণমূলের নেতারা
  • নির্বাচনের দ্বিমুখী প্রস্তুতিতে জাপা
  • আওয়ামী লীগের সহসম্পাদকের তালিকায় ৯৩ জন
  • যানজটে আটকে গেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন
  • রাবির ভর্তিযুদ্ধে সোয়া লাখ শিক্ষার্থী
  • টানা বৃষ্টিপাতে রাজশাহীর কৃষকের ঘরে ‘কান্না’
  • অধিক সময় টানা দেশ শাসনে আ.লীগ
  • বড় শহরগুলোতে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে
  • যেসব গুণে মিলবে নৌকার মনোনয়ন
  • নব্বই থেকে লাখপতি
  • রাজশাহীতে শামুকখোলের সুখের নিবাস
  • ত্রিমুখী দ্বন্দ্বের শিকার উত্তরা গণভবন : নেপথ্যে গাছ ও মাছ
  • সাপাহার হাসপাতালে ২৭ চিকিৎসকের ২৫ জনই নাই
  • রাজশাহীর ৯ পৌর-ইউপিতে ভোটের হাওয়া
  • উপরে